এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩১ এবং ২০ বছর বয়সী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ম্যানস্লোটার’ বা নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাসমানিয়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে হোবার্টের ব্যস্ততম এলিজাবেথ স্ট্রিট মলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত দুই যুবক ওই প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ধস্তাধস্তির সময় ওই বৃদ্ধকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। শক্ত মেঝেতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আঘাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ডিটেক্টিভ ইন্সপেক্টর ডেভিড গিল সংবাদমাধ্যমের সামনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের পাবলিক প্লেস বা জনসমাগমস্থলগুলোতে নিরাপদে চলাফেরা করার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে।
এই ধরনের সহিংসতা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং একজন পথচারী বা ‘গুড সামারিটান’ আহত বৃদ্ধের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। তাদের এই তাৎক্ষণিক মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্ত দুই যুবককে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা নরহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল সকালে তাদের হোবার্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।
সেখানে তাদের জামিন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে ‘ম্যানস্লোটার’ একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যেখানে হত্যার পূর্বপরিকল্পনা না থাকলেও নিজের কর্মকাণ্ডের ফলে অন্যের মৃত্যু হলে এই ধারায় বিচার করা হয়। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা এখনো পুলিশের সঙ্গে কথা বলেননি কিন্তু ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বা ঘটনাটি দেখেছেন, তারা যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জনাকীর্ণ এলাকায় এমন সহিংস মৃত্যুতে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।