আটককৃত ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্পর্শকাতর এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার রাতে কয়েকজন যুবক সাকিফকে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত বাসভবন পর্যন্ত যান। পরবর্তীতে তারা ওই বাসায় প্রবেশ করে সাকিফ এবং ওই তরুণীকে অশালীন অবস্থায় দেখতে পান বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার কারণেই তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার হাতে ওই ছাত্রদল নেতা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন বলেও খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ঘটনার সময় উপস্থিত ওই তরুণীও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পূর্বশত্রুতার জেরে তৈরি করা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার নিজস্ব বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ওই ছাত্রীর পরদিন সকালে নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল এবং সেজন্য তার যাত্রার প্রয়োজনীয় টিকিটও আগে থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
রাতে তাদের কয়েকজনের মিলে বাইরে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে হঠাৎ করে কিছু উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং ওই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে সাময়িকভাবে বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছিল।
সাকিফ অভিযোগ করেন, তিনি যখন গোসল করছিলেন, ঠিক তখনই স্থানীয়রা আকস্মিকভাবে তার বাসায় আক্রমণ করেন। দরজা খোলার পরপরই তারা কোনো কিছু না শুনেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
এমনকি এ সময় হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত কম্পিউটার, টাকার ব্যাগসহ বেশ কিছু মূল্যবান ব্যক্তিগত সামগ্রী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন জানান, প্রশাসন সংবাদ পাওয়া মাত্রই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।
পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলা ও বিধিমালা অনুযায়ী এই বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।