তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত কিংবা গণঅধিকার পরিষদের মতো কোনো দলের সদস্য নন বরং একজন সাধারণ দেশপ্রেমিক ও অরাজনৈতিক প্রতিবাদী হিসেবে দাবি করেন। সুরভী জানান, গ্রেফতারের পর তাকে প্রথমে গাজীপুর জেলা মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে তার আইনজীবীরা বয়সের বিষয়টি (১৭ বছর) এবং আসন্ন পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে জামিন চাইলেও তাকে বারবার রিমান্ডে পাঠানো হয়।
সুরভীর অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক আদালতে স্বীকার করেছিলেন যে জবানবন্দি ছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তবুও ‘উপর মহলের নির্দেশের’ অজুহাত দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রমাণ ছাড়াই কীভাবে একজন কিশোরীকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং এই অদৃশ্য ‘উপর মহল’ আসলে কারা? তার দাবি, দাবিকৃত টাকা না দেওয়াতেই তাকে রিমান্ডের নামে এই অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কারাগারে কাটানো দিনগুলোকে ‘জীবন্ত নরক’ হিসেবে অভিহিত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুরভী বলেন, “১১ দিনের নির্যাতন শেষে আমাকে লাশের মতো করে জেল থেকে বের হতে হয়েছে। আমার কাছে জেল মানেই ছিল টর্চার।” তিনি জানান, অর্থের বিনিময়ে এক শিক্ষকের সহায়তায় মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তখন মাকে শেষ বিদায়ের মতো বলেছিলেন, তিনি হয়তো আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন না।
তাকে যে মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে, সেখানে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মারধরসহ মোট ছয়টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে-যার কোনোটির সঙ্গেই তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে সুরভী কেবল নিজের দুর্দশার কথাই বলেননি, বরং কারাগারে আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা তাবাসসুমের বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি জানান, তানজিলাকে এমনভাবে গুম করে রাখা হয়েছে যে তার পরিবার বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার সঠিক অবস্থান জানে না।
সুরভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেও আমাদের মতোই প্রতিবাদী ছিল। কিন্তু আমাদের কণ্ঠ এভাবে রোধ করা হচ্ছে কেন?” কিশোরী এই আন্দোলনকারীর বক্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের স্তব্ধ করে দেয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি হয়রানি ও পুলিশি আচরণের বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।