ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক চীনের দুটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। রাশিয়াকে বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন চীন-ইইউ শীর্ষ বৈঠকের কয়েক দিন আগে এই ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বেইজিং ব্রাসেলসকে "অবিলম্বে তাদের ভুল পদক্ষেপ বন্ধ করতে" আহ্বান জানিয়েছে এবং চীনা সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (মফকম) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এই পদক্ষেপের তীব্র অসন্তোষ ও দৃঢ় বিরোধিতা করছে চীন।" মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, "চীনা কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় চীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।"
গত শুক্রবার ইইউ রাশিয়ার যুদ্ধ-প্রচেষ্টা ব্যাহত করার লক্ষ্যে তাদের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে চীনের দুটি ছোট ব্যাংক - সুইফেনহে রুরাল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং হেইহে রুরাল কমার্শিয়াল ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই ব্যাংকগুলো চীন-রাশিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এলো যখন উভয় পক্ষ বেইজিংয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মফকমের মতে, ইইউ'র এই নিষেধাজ্ঞা "ভিত্তিহীন অভিযোগের" উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। চীন বরাবরই আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অননুমোদিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এসেছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, ইইউ'র এই পদক্ষেপ চীন ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে পৌঁছানো ঐকমত্যের পরিপন্থী এবং চীন-ইইউ অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো চীন ও ইইউ'র মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আগে ক্রমবর্ধমান বিরোধের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, চীনা তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর ইউরোপীয় শুল্ক এবং বাজার প্রবেশাধিকারের নিয়মসহ আরও অনেক বিষয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।