গুঞ্জনটির সূত্রপাত হয় পূর্ণিমার আগের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন: “মানুষের ভিড়ে কিছু মুখ থাকে, যাদের আমরা আপন ভেবে হৃদয়ের দরজা খুলে দিই। কিন্তু সময়ের কঠিন পরীক্ষায় বুঝি, তারা আসলে সম্পর্কের আবরণে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়, কারণ মিথ্যা সম্পর্কের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার চেয়ে নিঃসঙ্গতা অনেক বেশি শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ।”
নায়িকার এই আবেগপূর্ণ লেখা দেখেই ভক্ত ও নেটিজেনদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়-পূর্ণিমার দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা চলছে কি না। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে চলতে থাকে নানা প্রশ্ন। বিচ্ছেদের গুঞ্জন থামাতে পূর্ণিমা শনিবার বিকেলে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি আগের পোস্টটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং তাঁর স্বামী আশফাকুর রহমান রবিনকে (Ashfakhur Rahman Robin) ট্যাগ করেন।
পূর্ণিমা তাঁর পোস্টে লেখেন: “সুদিনে মানুষের বন্ধুর অভাব হয় না। এদের অধিকাংশই হচ্ছে সুযোগসন্ধানী কৃত্রিম বন্ধু। এরা সব সময়ই নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যতিব্যস্ত থাকে। দুর্দিনে এদের খুঁজে পাওয়া ভার! কিছুদিন আগে আমার দেওয়া স্ট্যাটাসটি থেকে এমনটাই বোঝানো হয়েছিল। আসলে প্রতিটি মানুষের চারপাশে যা কিছু ঘটে, এসবকে কেন্দ্র করেই স্ট্যাটাসটা লেখা হয়েছিল। দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। সবার মতো আমারও কমবেশি কাছের-দূরের মানুষ রয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করেন, “এ কারণে আমাকেও সুসময়ের বন্ধু ও স্বার্থপরদের ফেইস করতে হয়েছে। কিন্তু লেখাটির কিছু অংশ আগে পিছে না বুঝে অনেকে আমার পারিবারিক জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলেছে!” পূর্ণিমা অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম সত্যতা নিশ্চিত না করে চটকদার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে “বিষ্মিত ও মর্মাহত” করেছে।
পোস্টের শেষে পূর্ণিমা তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন, যা সমস্ত গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়েছে। তিনি লেখেন: “আমার দেওয়া স্ট্যাটাসের সাথে পারিবারিক জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় আমরা আমাদের পরিবার ও সংসার জীবন নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।” এই নায়িকা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে সেই সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, পূর্ণিমার গুঞ্জন চলাকালীন সময়েই তাঁর স্বামী আশফাকুর রহমান রবিনও সামাজিক মাধ্যমে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি নিজের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করেন, যেখানে পূর্ণিমাকে জড়িয়ে তাঁদের দুজনের একটি মিরর সেলফি দেখা যায়।
উল্লেখ্য, পূর্ণিমা ২০২২ সালে আশফাকুর রহমান রবিনকে বিয়ে করেন। রবিন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সিডনির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কাজের সূত্রে পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে। এটি পূর্ণিমার দ্বিতীয় বিয়ে; এর আগে তিনি ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর আহমেদ জামাল ফাহাদকে বিয়ে করেছিলেন। পূর্ণিমার এই স্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে চলমান সকল গুঞ্জনের অবসান ঘটল।