৭৮ কেজি থেকে ৬১ কেজিতে ফিরে আসার এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের পুনরুদ্ধার নয়, বরং এটি তার মানসিক দৃঢ়তা, পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত বিপর্যয় মোকাবিলার এক অনন্য উদাহরণ। এই পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বাঁধন তার জীবনের কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দীর্ঘ চার বছরের একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
এর পরপরই জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দেয়। ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা, বিচ্ছেদ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে তিনি ‘ওভার ইটিং ডিজঅর্ডার’ বা অতিরিক্ত ভোজন আসক্তিতে আক্রান্ত হন। মানসিক প্রশান্তির অভাবে তিনি খাদ্যাভ্যাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে তার ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
তবে একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে বাঁধন দ্রুতই বুঝতে পারেন যে, এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া যায় না। ৪৩ বছর বয়সে এসে ওজন কমানো শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে জেনেও, তিনি দমে যাননি। ভবিষ্যতের কাজ এবং নিজের সুস্থতার কথা বিবেচনা করে তিনি চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হন। গত ছয় মাস ধরে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তিনি তার লক্ষ্য অর্জন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনের পর বেশ কিছু নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে আলোচনা চলছে, যার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা তার জন্য অপরিহার্য ছিল। বর্তমানে বাঁধন তার মিরপুরের বাসভবনে পরিবার ও একমাত্র কন্যার সঙ্গে বসবাস করছেন এবং জীবনের একটি প্রশান্তিময় সময় পার করছেন। বিয়ের বিষয়ে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা 'ট্রমা' থাকলেও, তিনি জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন।
তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি বর্তমানে একটি প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন এবং এই সময়টি দারুণ উপভোগ করছেন। খুব শীঘ্রই তিনি তার ভক্তদের সঙ্গে এই সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত শেয়ার করবেন বলে আভাস দিয়েছেন। আগামী বছর তার অভিনীত দুটি নতুন কাজ দর্শকদের সামনে আসবে, যেখানে বাঁধনকে তার এই নতুন ও আত্মবিশ্বাসী রূপে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।