শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৮ হাজার প্রতিযোগীর ভিড়ে ‘নতুন কুঁড়ি’র নাচে দ্বিতীয় স্বাধিকা

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম

১৮ হাজার প্রতিযোগীর ভিড়ে ‘নতুন কুঁড়ি’র নাচে দ্বিতীয় স্বাধিকা
ছবি: Collected

দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি ভেঙে পুনরায় পর্দা উঠেছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঐতিহ্যবাহী ও তুমুল জনপ্রিয় শিশু-কিশোর মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর। আর এই জমকালো প্রত্যাবর্তনের মঞ্চেই নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী নাজিফা হোসেন স্বাধিকা।

 

সারা দেশ থেকে আসা হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করে নৃত্য বিভাগের ‘সাধারণ নৃত্য’ শাখায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সে। তার এই ঈর্ষণীয় সাফল্য কেবল তার পরিবার বা বিদ্যাপীঠ নয়, বরং দেশের শিশু-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে এবার অংশ নিয়েছিল প্রায় ১৮ হাজার শিশু-কিশোর।

 

নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা ও অভিনয়সহ মোট ১২টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ করে নৃত্য বিভাগে সেরাদের সেরা হওয়ার লড়াই ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। এই বিশাল প্রতিযোগিতার ভিড়ে স্বাধিকা প্রথমে ঢাকা বিভাগীয় বাছাইপর্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে সেরা দশের লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত পর্বে সেরা পাঁচের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে।

 

তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানোর এই দীর্ঘ ও কঠিন পথপরিক্রমায় তার একাগ্রতা ও নৈপুণ্য বিচারক এবং দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর ‘নতুন কুঁড়ি’ পুনরায় চালু হওয়ায় এটিকে দেশের শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক দিলারা বেগম স্বাধিকার এই অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

তিনি জানান, স্বাধিকা শিশু একাডেমির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং তার এই সাফল্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি স্বাধিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমানও ছাত্রীর এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতা মূলত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের একটি মাধ্যম।

 

বিটিভির এই জনপ্রিয় আয়োজন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে যে সুযোগ তৈরি করেছে, তা প্রশংসনীয়। নাজিফার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।” নিয়মিত কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা এবং শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই স্বাধিকাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়ে নেওয়ার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না।

 

তবে তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা ও প্ল্যাটফর্ম পেলে বাংলাদেশের শিশুরা অসাধারণ প্রতিভা প্রদর্শনে সক্ষম। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো জাতীয় মঞ্চ আবারও সচল হওয়ায় আগামী দিনে স্বাধিকার মতো আরও অনেক খুদে শিল্পী বিকশিত হবে এবং দেশের আবহমান সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।