শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাজের কোনো সময়সীমা মানেন না ‘ওয়ার্কহোলিক’ মাধুরী

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:৩৭ পিএম

কাজের কোনো সময়সীমা মানেন না ‘ওয়ার্কহোলিক’ মাধুরী
ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের কর্মসংস্কৃতি ও কাজের সময়সীমা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিলেন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আইকন ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। কিছুদিন আগেই বর্তমান প্রজন্মের শীর্ষ অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন শুটিং সেটে দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

তার এই মন্তব্য বলিউড থেকে শুরু করে টলিউড পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার ঝড় তোলে। কেউ একে পেশাদারিত্বের অভাব বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউবা একে কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বলে সমর্থন জানিয়েছেন। এই চলমান বিতর্কের মাঝেই ‘ড্যান্সিং কুইন’ খ্যাত মাধুরী দীক্ষিতের অকপট স্বীকারোক্তি যেন আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিল।

 

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাধুরী দীক্ষিত নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন, যা দীপিকার দাবির সঙ্গে এক স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে। মাধুরী জানান, তার আসন্ন সিনেমা ‘মিসেস দেশপান্ডে’-র শুটিং চলাকালীন তিনি প্রায় প্রতিদিনই ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় সেটে কাটিয়েছেন। কাজের প্রতি নিজের এই নিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, "যখন ‘মিসেস দেশপান্ডে’ ছবিটির শুটিং চলছিল, তখন প্রায়ই ঘড়ির কাঁটা দেখতাম না।

 

১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করাটা আমার জন্য খুব স্বাভাবিক ছিল। আসলে আমি ভীষণ ‘ওয়ার্কহোলিক’ বা কাজপাগল মানুষ। কাজ ছাড়া আমি অন্য কিছু বুঝি না, আর সেটে থাকাটা আমি উপভোগ করি।" মাধুরীর এই বক্তব্য শুনে মনে হতে পারে তিনি হয়তো দীপিকার শর্তের বিরোধিতা করছেন, কিন্তু অভিজ্ঞ এই অভিনেত্রী বিষয়টিকে দেখেছেন অত্যন্ত পেশাদার ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তিনি নিজের কাজের ধরনের সঙ্গে অন্যের তুলনা করতে নারাজ।

 

নিজের দীর্ঘ কর্মঘণ্টার উদাহরণ দিলেও তিনি সহকর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা বা ইচ্ছা অন্যের জন্য মানদণ্ড হতে পারে না। তিনি বলেন, "হয়তো আমি অন্যদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। কিন্তু কারও যদি মনে হয় তিনি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করতে চান না বা সেই সক্ষমতা তার নেই, তবে সেই কথা বলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।

 

প্রত্যেকের নিজের জীবন এবং নিজস্ব নিয়মেই চলা উচিত।" মাধুরী দীক্ষিতের এই ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য বলিউডের দুই প্রজন্মের কর্মভাবনার পার্থক্যকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। একদিকে অভিজ্ঞ প্রজন্মের কাজের প্রতি সীমাহীন আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ সময় শ্রম দেওয়ার মানসিকতা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ বা কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা-এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই এখন আবর্তিত হচ্ছে বিনোদন জগতের আলোচনা।

 

মাধুরীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই প্রকৃত পেশাদারিত্ব। দীপিকার দাবির পর মাধুরীর এই মন্তব্য বিতর্ককে উসকে না দিয়ে বরং একটি সুস্থ আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।