মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা
ছবি : Collected

ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহে মস্কোর সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

 

মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।

 

প্রস্তাবিত এই প্যাকেজে রাশিয়ার ব্যাংক, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, তেল ব্যবসায়ী, শোধনাগার এবং তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত ক্রিপ্টো অপারেটরদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় কালাস উল্লেখ করেন যে, ইইউ ধাপে ধাপে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

 

এই নতুন প্যাকেজে রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণের ব্যবস্থার সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোর ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

 

ব্রাসেলসের ওই একই সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন জানান, নতুন এই বিধিনিষেধগুলো মূলত জ্বালানি, আর্থিক পরিষেবা, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং মৎস্য খাতের ওপর বিশেষ জোর দেবে।

 

এর পাশাপাশি রাশিয়ার সাবেক যোদ্ধাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাবও আনা হয়েছে। ফন ডার লেইন দাবি করেন যে, তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে অর্থনৈতিকভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার পাশাপাশি দেশটির রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

জ্বালানি খাতের ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে সৃষ্ট বাজার অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তেলের মূল্যসীমা সমন্বয় স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছে ইইউ।

 

এর পাশাপাশি রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া নৌবহরের সাথে যুক্ত আরও ৩০টি জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ফলে মোট নিষিদ্ধ জাহাজের সংখ্যা ৬৩০টি ছাড়িয়ে যাবে।

 

এবারই প্রথম ছায়া নৌবহরকে সাহায্যকারী অন্যান্য সহযোগী জাহাজ এবং রাশিয়ার তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বিমানবন্দর ও শোধনাগারকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে।

 

একই সাথে রাশিয়ার কাছে তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ট্যাংকার বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে ইউরোপীয় কমিশন। আর্থিক খাতে চাপ বাড়াতে ব্রাসেলস আরও ৩১টি রুশ ব্যাংকের সাথে লেনদেন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।

 

একই সাথে রাশিয়ার ওপর আরোপিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহযোগিতা করার অভিযোগে বিভিন্ন তৃতীয় দেশের ২০টি ব্যাংক, ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং তেল ব্যবসায়ীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

ফন ডার লেইন আরও সতর্ক করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী তৃতীয় দেশের ক্রিপ্টো-সম্পদ পরিষেবাগুলোর ওপর এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির বিধান রাখা হচ্ছে।

 

এছাড়া রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, মহাকাশ ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত ধাতু, জ্যামিং সিস্টেম এবং উৎক্ষেপণ যন্ত্রপাতির ওপর নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে।

 

এর বাইরে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুশ ধাতু, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং মাছ আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই পুরো প্যাকেজটি কার্যকর করার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমস্ত সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি