মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, উরসুলা (ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট) এবং তাঁর পুরো দল... এবং তারা খুব ভালো ব্যবহার করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি তাঁর পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, "কিছুদিন আগেও তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করত।" এমনকি তিনি ইইউ-কে "অনেক ক্ষেত্রে চীনের চেয়েও খারাপ" বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু এরপরই তিনি সুর নরম করে যোগ করেন, "এখন তারা আমাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করছে, তাই দেখা যাক কী হয়।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শুল্ক আরোপের বিষয়টি। তিনি বলেন, শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইইউ-কে পাঠানোর প্রক্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র "সম্ভবত আর দুদিন দূরে" আছে। তাঁর এই কথার মাধ্যমে তিনি স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ইইউ-এর সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। আপাতত নতুন কোনো শুল্ক আরোপ না করে আলোচনার পথ খোলা রাখছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার জবাবে ইইউ-ও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসায়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ব্যবসায়িক এবং কূটনৈতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ এই মন্তব্যে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, 'দুদিনের' আল্টিমেটাম একটি চাপা উত্তেজনা জিইয়ে রাখছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ট্রাম্পের এক ধরনের দর কষাকষির কৌশল। এই সাময়িক স্বস্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি এটি আরও বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র// গার্ডিয়ান