ফ্লেমিঙ্গোদের তাড়াতে কৃষকরা দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। ট্রাকের হর্ন বাজানো, ড্রাম পেটানো এমনকি বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী গ্যাস কামান ব্যবহার করেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। পাখিরা এক ক্ষেত থেকে উড়ে গিয়ে পাশের আরেক ক্ষেতে একই কাজ করছে। এনরিকো ফাব্রি নামের এক স্থানীয় কৃষক হতাশ হয়ে বলেন, তার কিছু জমির প্রায় ৯০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ৬৩ বছর বয়সী এই কৃষক বলেন, "এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। অনেক যত্ন আর সময় বিনিয়োগ করে সবকিছু প্রস্তুত করার পর, ফসল যখন সবেমাত্র বাড়তে শুরু করে, তখন চোখের সামনে তা নষ্ট হয়ে যাওয়াটা যেন সদ্যোজাত সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার মতো।
পক্ষীবিদদের মতে, এই ফ্লেমিঙ্গোগুলো মূলত দক্ষিণ স্পেনের বাসিন্দা ছিল। ২০০০ সালের দিকে সেখানে খরার কারণে তারা নতুন বাসস্থানের খোঁজে ইতালির এই অঞ্চলে চলে আসে। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত কৃষকরা যখন জমিতে জল জমিয়ে রাখেন, সেই ভেজা ও অগভীর ক্ষেতগুলোই ফ্লেমিঙ্গোদের জন্য আদর্শ শিকারক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক কনফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাসিমো পিভা বলেন, "পরিবেশের দিক থেকে এই দৃশ্য খুবই সুন্দর, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে চাল চাষ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফ্লেমিঙ্গোগুলো সুন্দর প্রাণী, কিন্তু তাদের উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা করতে হবে।
তবে এই সমস্যার মানবিক সমাধানের পথও বাতলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পক্ষীবিদ রবার্তো তিনারেলি পরামর্শ দিয়েছেন, ধানক্ষেতের চারপাশে লম্বা গাছ বা বেড়া দেওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, ক্ষেতের জলের স্তর ৩০ সেমি থেকে কমিয়ে ৫-১০ সেমি করে ফেলা। এতে ধান গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে না, কিন্তু ফ্লেমিঙ্গোদের সাঁতার কেটে শিকার করার জন্য তা আর আকর্ষণীয় থাকবে না। এখন এই সুন্দর পাখি এবং অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেই পথই খুঁজছে ইতালি।
---