ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউরোপীয় মিত্রদের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সরবরাহ করবে। এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের জনগণের জীবন রক্ষায় সমর্থন দিতে প্রস্তুত থাকায় আমি কৃতজ্ঞ।" কিয়েভের সরকারি কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা তাদের দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কিয়েভের সবাই এই ঘোষণায় আশ্বস্ত নন। ইউক্রেনের কয়েকজন সামরিক বিশ্লেষক এবং সমালোচক মনে করছেন, এই পরিকল্পনা রাশিয়াকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। স্বতন্ত্র সাংসদ মারিয়ানা বেজুহলা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "ট্রাম্প পুতিনকে ইউক্রেন দখলের জন্য আরও ৫০ দিন সময় দিয়েছেন।" তাদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর হওয়ার আগের এই ৫০ দিনে রাশিয়া তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্রেমলিনপন্থী ব্লগাররা ট্রাম্পের এই হুমকিকে প্রায় উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা এটিকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। রাশিয়ার একজন সিনিয়র আইনপ্রণেতা কনস্টানটিন কোসাচেভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, "৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে।" ট্রাম্পের ঘোষণার পর মস্কোর শেয়ারবাজারে সূচক ২.৫% বৃদ্ধি পায়, যা প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা আরও কঠোর কোনো পদক্ষেপের আশঙ্কা করছিলেন।
তবে মস্কোর কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ঘোষণা পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের একটি মৌলিক পরিবর্তন নির্দেশ করে। ক্রেমলিনপন্থী ভাষ্যকার সের্গেই মার্কভ বলেন, "আজ থেকে ট্রাম্প শুধুমাত্র রাশিয়াকে চাপ দিচ্ছেন এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করছেন। সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের এই নতুন নীতি যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে আগামী ৫০ দিনই বলে দেবে এটি কি ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ, নাকি রাশিয়ার সমালোচকদের মতে এটি কেবলই একটি রাজনৈতিক কৌশল।
---