গতকাল রবিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেন সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" রাশিয়ার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে তাদের দখলকৃত চারটি অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই দাবিগুলো বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৪ জুলাই রাশিয়াকে হুমকি দিয়ে বলেন, ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে মস্কোর ওপর "গুরুতর শুল্ক" আরোপ করা হবে। একইসঙ্গে, তিনি ইউক্রেনকে আরও মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের একটি নতুন পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার আওতায় ইউক্রেনকে বহু আকাঙ্ক্ষিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রবিবার ভোরে ৫৭টি শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। জাপোরিঝিয়া এবং খারকিভ অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। অপরদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর রাশিয়ার ভূখণ্ডে চালানো ৯৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ড্রোন মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নতুন করে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে এর কোনো দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে তীব্র আক্রমণ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকি এই সংকটের দ্রুত সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে।
---