তিনি ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিশ্বের অন্যান্য অংশের সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্মতিসূচক মাথা নাড়েন এবং তার পাশে থাকা উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "আপনি দেখছেন, [চেরনিশেঙ্কো] মাথা নাড়ছেন। আমাদের সরকার এটি (নিষেধাজ্ঞা) সমর্থন করে।" প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন যে, কেবল আইনি নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করাও অপরিহার্য, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তির উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩৫ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষ ই-সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে, পুতিন নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে ভেপ বিক্রির ওপর আঞ্চলিক নিষেধাজ্ঞা পরীক্ষার একটি পাইলট প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিলেন। দেশটির ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা 'রস্পোত্রেবনাদজোর' এই ধারণাকে সমর্থন করেছিল।
ই-সিগারেট সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার পার্লামেন্ট, স্টেট ডুমায়, শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছে। ডুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভলোদিন এর আগে ভেপকে "তরল বিষ" (liquid poison) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং এর মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ভলোদিনের তথ্যমতে, একটি জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারী ২ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৪ শতাংশই এই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ করার মতো "অর্ধেক পদক্ষেপ" (half-measures) পর্যাপ্ত বলে প্রমাণিত হয়নি।
পুতিনের এই সমর্থনের পর, ডুমার ডেপুটি চেয়ারম্যান ভ্লাদিস্লাভ দাভানকভ বলেছেন, "ভেপ একটি শয়তানি জিনিস। স্টেট ডুমা অদূর ভবিষ্যতে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।" ডুমার শ্রম ও সামাজিক নীতি কমিটির প্রধান ইয়ারোস্লাভ নিলভ এই পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি ব্যবহারকারীদের বয়সসীমা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে, এই প্রস্তাবের সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, এমন আকস্মিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ই-সিগারেটের বাণিজ্যকে কেবল কালোবাজারে ঠেলে দিতে পারে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকারের বার্ষিক ১৫ বিলিয়ন রুবল (প্রায় ১৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।
তা সত্ত্বেও, আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, জনগণের স্বাস্থ্যই সর্বাগ্রে। ডুমা ডেপুটি দিমিত্রি গুসেভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, "যেকোনো বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে আমাদের জনগণের, বিশেষ করে তরুণদের স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"