সোমবার ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, রাশিয়ার নতুন হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোর আরও ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে বেশিরভাগ অঞ্চলে নির্ধারিত লোডশেডিং চলছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতগুলো ব্যবস্থা তৈরি করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।" সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি একটি বিকল্প প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৫টি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম অর্ডার করতে চাই, তবে চুক্তির কিছু উপাদান অনুপস্থিত।" তিনি প্রস্তাব দেন, "ইউরোপীয় সহকর্মীরা আমাদের এখানে সাহায্য করতে পারেন-তারা এখন তাদের সিস্টেমগুলো আমাদের ধার দিতে পারেন এবং নির্মাতাদের কাছ থেকে আমাদের সিস্টেমগুলো এসে পৌঁছালে তারা তা ফেরত নিতে পারেন।"
জেলেনস্কি সম্প্রতি জার্মানির কাছ থেকে আরও প্যাট্রিয়ট সিস্টেম পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। জার্মানি জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনকে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম দিয়েছে এবং আইরিস-টি (IRIS-T) ও স্কাইনেক্স (Skynex)-এর মতো অন্যান্য ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে। তবে বর্তমানে ইউক্রেনে ঠিক কতগুলো প্যাট্রিয়ট সক্রিয় আছে তা জানা যায়নি।
ন্যাটো ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করলেও, পরিস্থিতি আগের মতো নেই। পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের মতো, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না, যদিও ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরঞ্জাম কিনছে। রাশিয়াও তাদের হামলার কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা এখন কেন্দ্রীয় জাতীয় গ্রিডের পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয় সুইচইয়ার্ড ও সাবস্টেশনগুলোতে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই বিদ্যুৎ সংকট এমন এক সময়ে তীব্র হয়েছে, যখন ইউক্রেন পূর্বের শক্ত ঘাঁটি পোক্রোভস্ক শহর দখলের জন্য রাশিয়ার একটি বড় স্থল অভিযান প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শহরটিতে নতুন করে আক্রমণের জন্য রাশিয়া ১ লক্ষ ৭০ হাজার সৈন্য সমাবেশ করেছে।