সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের রূপরেখা না থাকায় কপ-৩০ সম্মেলনের খসড়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের রূপরেখা না থাকায় কপ-৩০ সম্মেলনের খসড়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ছবি: AP

ব্রাজিলের আমাজন বনের কিনারে অবস্থিত বেলেম শহরে চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-৩০ নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে শনিবার ভোর পর্যন্ত গড়িয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি তথা তেল, গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় সম্মেলনের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

 

এই অচলাবস্থার কারণে প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইইউ প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মূল কারণগুলো উল্লেখ করে তা নিরসনে কঠোর প্রতিশ্রুতি না থাকলে তারা কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।

 

ইউরোপীয় কমিশনার ওপকে হোয়েকস্ট্রা খসড়াটির তীব্র বিরোধিতা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য যদি জোরালো পদক্ষেপ ও শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার না করা হয়, তবে ইইউ আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্বের ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোসহ প্রায় ৮০টি দেশ ইইউ-এর এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

 

মূল বিরোধের জায়গাটি হলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে। দুই বছর আগে দুবাই সম্মেলনে বিশ্বনেতারা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে "সরে আসার" (transition away) বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু এবারের খসড়ায় সেই প্রক্রিয়াটি কীভাবে এবং কত দ্রুত সম্পন্ন হবে, তার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।

 

সৌদি আরব এবং রাশিয়ার মতো শক্তিশালী তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো এই ধরনের কোনো সময়সীমা নির্ধারণের ঘোর বিরোধিতা করছে, যা আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আয়োজক দেশ ব্রাজিলের প্রস্তাবিত নতুন খসড়ায় মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জাতীয় পরিকল্পনাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

এতে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর দিকে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা "অপরিবর্তনীয়"। তবে সমালোচকদের মতে, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য এই ভাষা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে ভেন্যুতে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

 

যদিও এতে কেউ গুরুতর আহত হয়নি, তবে এর ফলে আলোচনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মদিবস নষ্ট হয়। বর্তমানে ২০০টি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশও যদি আপত্তি জানায়, তবে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বনেতারা একটি সর্বসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

- Euro News