গ্রামগুলো হলো-দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের 'তিখে' (Tykhe) ও 'ওদ্রাদনে' (Odradne) এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলের 'পেত্রিভস্কে' (Petrivske)। কূটনৈতিক আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার এই ঘোষণা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রুশ সেনারা তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রামগুলো দখল করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ করে দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর এই অগ্রগতি সামরিক বিশ্লেষকদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতদিন যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থাকলেও, এখন দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেও রুশ বাহিনীর প্রবেশ ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দোনেৎস্কের পেত্রিভস্কে গ্রামের দখল নেওয়ার মাধ্যমে রুশ বাহিনী কৌশলগতভাবে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাল, যা ওই অঞ্চলের অন্য এলাকাগুলোতেও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। এই সামরিক সাফল্যের খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় মিত্ররা জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই রাশিয়া রণক্ষেত্রে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে গ্রাম দখলের এই ঘটনা রাশিয়ার 'আপসহীন' মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট গ্রামগুলো হারানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, কিয়েভ স্বীকার করেছে যে পূর্ব ফ্রন্টের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জনবল ও গোলাবারুদের সংকটে ভুগছে এবং রুশ বাহিনীর ক্রমাগত আর্টিলারি হামলা ও অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন যে, তার দেশ যুদ্ধের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে।
যুদ্ধের চতুর্থ বছরে পদার্পণের মুখে রাশিয়ার এই নতুন ভূখণ্ড দখল প্রমাণ করে যে, শীতের আগেই তারা যতটা সম্ভব এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে জেনেভা আলোচনার ফলাফলের দিকে-কূটনীতি কি পারবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে, নাকি রণক্ষেত্রের এই নতুন সমীকরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে?