শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার সাথে গোপনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী পশ্চিমা ‘অবন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৩৭ পিএম

রাশিয়ার সাথে গোপনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী পশ্চিমা ‘অবন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহ
ছবি: RT

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সদ্য সমাপ্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিনিধিদল। ক্রেমলিনের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং সম্মেলনে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাক্সিম ওরেস্কিন দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাশিয়ার কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এবং মস্কোর ‘অবন্ধু রাষ্ট্রের’ তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ গোপনে রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাবেক এই রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী জানান, লোকচক্ষুর অন্তরালে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এসব দেশের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সাথে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন।

 

তবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি। ওরেস্কিন বলেন, “নাম প্রকাশ করলে তাদের মিত্র বা সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, তাই আমরা আলোচনার এই অংশটি গোপন রাখছি।” তার মতে, সম্মেলনের দিনগুলোতে বেশ কিছু দেশের সাথে অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করে। এর জবাবে মস্কো এই দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজরদারি এবং কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করে রাশিয়া।

 

কিন্তু ওরেস্কিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজনৈতিকভাবে রাশিয়ার বিরোধিতা করলেও, অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে অনেক দেশ তলে তলে মস্কোর সাথে সম্পর্ক মেরামত করতে চাইছে। ক্রেমলিন অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে রাশিয়ার অর্থনীতি এখন অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক ও স্বনির্ভর হয়েছে।

 

রাশিয়ার এই কূটনৈতিক অবস্থানের সাথে সুর মিলিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, মস্কো কোনো দেশের সাধারণ জনগণ বা রাষ্ট্রকে শত্রু মনে করে না। তার মতে, রাশিয়ার বিরোধ কেবল ওই সব দেশের সরকারের বৈরী নীতির বিরুদ্ধে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেছিলেন, “রাশিয়ার দৃষ্টিতে কোনো অবন্ধু জাতি বা মানুষ নেই, আছে কেবল অবন্ধু সরকার।”

 

যদিও ইতালীয় পত্রিকাটি সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, পরবর্তীতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, জোহানেসবার্গের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণেও জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনীতির প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায়।

 

- RT News