এই ঘটনায় চতুর্থ আরেকজন ব্যক্তিকে বিচারিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তিরা ‘এসওএস ডনবাস’ (SOS Donbass) নামক একটি ফরাসি-রুশ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আনা নভিকোভা, যার ফ্রান্স ও রাশিয়া-উভয় দেশেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। অপর আটক ব্যক্তি হলেন সংগঠনটির পরিচালক এবং ফরাসি নাগরিক ভিনসেন্ট পারফেত্তি।
তদন্তকারীদের মতে, এই সংগঠনটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের নামে গঠিত এবং তারা নিজেদের মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে। তবে তাদের কর্মকাণ্ড মূলত ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থন জোগানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী তথ্য সংগ্রহের প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই অপরাধগুলো প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (DGSI) নভিকোভার কর্মকাণ্ডকে ‘জাতির মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, নভিকোভা এবং পারফেত্তি তাদের সংগঠনের ওয়েবসাইটে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রুশ পতাকার রঙের করমর্দন সম্বলিত পোস্টার প্রচার করতেন, যেখানে লেখা থাকত ‘রাশিয়া আমার শত্রু নয়’।
তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্য প্রচার করা হতো, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিষিদ্ধ রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিয়াচেস্লাভ পি নামের এক রুশ নাগরিককে শনাক্ত করা হয়, যিনি গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্যারিসের আর্ক দে ট্রায়ম্ফে রুশপন্থী পোস্টার লাগিয়েছিলেন।
ওই পোস্টারগুলোতে সোভিয়েত সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানের সূত্রপাত হয়। এই আটকের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন যে, রাশিয়া ইউরোপের বিরুদ্ধে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা মিশ্র যুদ্ধ পরিচালনা করছে। ম্যাক্রোঁ অভিযোগ করেন, রাশিয়া ভাড়াটে বা প্রক্সি ব্যবহার করে ইউরোপের দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পারফেত্তির আইনজীবী ডেভিড বোকোবজা এই অভিযোগগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এটি কোনো গুপ্তচরবৃত্তির মামলা নয়, বরং কেবল পোস্টার লাগানোর ঘটনা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রুশপন্থী মতামত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার বিশদ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।