পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করেছে যে, ইউরোপীয় এভিয়েশন খাত বা বিমান সংস্থাগুলো এখন আলোচনার প্রক্রিয়াটি অন্তত ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এই নতুন আইনের প্রভাব বা ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট সঠিকভাবে যাচাই না করা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। গত মঙ্গলবার ইউরোপে চলাচলকারী বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্লকের পরিবহন মন্ত্রীদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘
এয়ারলাইন্স ফর ইউরোপ’, ‘ইউরোপিয়ান রিজিয়নস এয়ারলাইন অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে যে খসড়া টেক্সট বা নথিপত্র নিয়ে আলোচনা চলছে, তা কার্যকর হলে বিমান সংস্থাগুলোর বার্ষিক পরিচালন ব্যয় অন্তত ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এভিয়েশন খাতের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।
অতিরিক্ত খরচ পোষাতে বাধ্য হয়ে তাদের টিকিটের দাম বাড়াতে হবে এবং অনেক রুটে বিমান চালানো অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়ায় সেগুলো বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্লাইট বিলম্বের ক্ষতিপূরণ বা কম্পেনসেশনের সময়সীমা। বর্তমানে ইউরোপীয় যাত্রীরা ফ্লাইট বাতিল বা তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হলে ২৫০ থেকে ৬০০ ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
নতুন প্রস্তাবে অর্থের পরিমাণ দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে ৩০০ থেকে ৬০০ ইউরো করার কথা বলা হয়েছে। তবে বিমান সংস্থাগুলো চাপ দিচ্ছে যেন ক্ষতিপূরণ দাবির সময়সীমা তিন ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ ঘণ্টা করা হয়। অন্যদিকে, ইইউ কাউন্সিল সময়সীমা তিন ঘণ্টা রাখলেও ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ কমানোর বিকল্প নিয়ে ভাবছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য সতর্ক করেছে যে, সময়সীমা বাড়ানো হলে যাত্রীদের একটি বিশাল অংশ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
ইউরোপিয়ান কনজিউমার অর্গানাইজেশন (BEUC)-এর জ্যেষ্ঠ আইনি কর্মকর্তা স্টিভেন বার্জার ইউরোনিউজকে জানান, ফ্লাইটের গড় বিলম্ব সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হয়। তাই সময়সীমা বাড়িয়ে চার ঘণ্টা করা হলেও প্রায় ৬০ শতাংশ যাত্রী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। সংস্থাটি বেসিক টিকিটের মূল্যে হ্যান্ড লাগেজ অন্তর্ভুক্ত করা এবং ‘নো-শো’ ক্লজ বা যাত্রী উপস্থিত না হলে ফিরতি টিকিট বাতিলের নিয়ম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পক্ষেও প্রচার চালাচ্ছে।
এই আইন কার্যকর করতে হলে সদস্য রাষ্ট্র (কাউন্সিল), ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইউরোপীয় কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো ক্ষতিপূরণ এবং লাগেজ সংক্রান্ত বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এই অচলাবস্থা নিরসনে আগামী সোমবার তিন পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হবে।
বর্তমানে ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী দেশ ডেনমার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে একজন ইইউ কূটনীতিক জানিয়েছেন, সব পক্ষের তীব্র বিরোধিতার কারণে সোমবারের আলোচনাটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে এবং ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।