আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডিজিটাল পরিসরের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকা উচিত-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নাকি মানুষ-এবং মানুষের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে এই উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ক্লাবের সভাপতি ভায়াচেস্লাভ কার্তুখিন তার বক্তব্যে ডিজিটাল অপরাধের ক্রমবর্ধমান জটিলতা তুলে ধরেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতারকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী এবং তারা বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত তাদের অপরাধের ধরণ পরিবর্তন করছে। তাই এই হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে তথ্য ও দক্ষতা বিনিময় করা এখন সময়ের দাবি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সদস্য এলিনা সিদোরেঙ্কো এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই-চালিত সাইবার অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে এবং অপরাধীদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিসংখ্যানও এই শঙ্কার কথাই বলছে। ইন্টারপোলের ২০২৪ সালের গ্লোবাল সাইবার ক্রাইম অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী, সাইবার অপরাধের কারণে বিশ্বজুড়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে এআই-এর সহায়তায় করা হামলাগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বা ‘এনিসা’ জানিয়েছে, গত এক বছরে এআই-চালিত ফিশিং এবং ডিপফেকের মাধ্যমে প্রতারণা ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, হ্যাকাররা এখন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি পরিষেবাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এলিনা সিদোরেঙ্কো উল্লেখ করেন যে, জটিল সমস্যাগুলো মোকাবেলা এবং সাইবার নিরাপত্তার কার্যকর কৌশল প্রণয়নে ‘ডায়ালগ ক্লাব’ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, অক্টোবরের শেষে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে জাতিসংঘের সাইবার ক্রাইম কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়, যা সাইবার অপরাধ দমনে প্রথম বৈশ্বিক চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত এই ডায়ালগ ক্লাবটি বর্তমানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার একটি অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে, যেখানে রাশিয়া, চীন, ভারত, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।