এর পাশাপাশি এই খাতে সরাসরি কর্মসংস্থানের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অ্যারোস্পেস, সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইউরোপ (ASD)-এর সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এএসডি-র আওতাধীন ৪,০০০ কোম্পানির মোট আয় ১০.১ শতাংশ বেড়ে ৩২৫.৭ বিলিয়ন ইউরো হলেও, প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল প্রতিরক্ষা খাত।
বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে যেখানে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে প্রতিরক্ষা খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় দ্বিগুণ। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এই খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান ৬.৯ শতাংশ বেড়ে ১১ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা খাতেই নতুন করে ৬ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট এবং সাব (Saab)-এর সিইও মাইকেল জোহানসন এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের এই খাতটি শুধুমাত্র ইউরোপের অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা, সংযোগ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অনিশ্চিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইউরোপের সার্বভৌমত্ব ও বৈশ্বিক অবস্থান ধরে রাখতে এই শিল্পে বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।" তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী বাজেটে এই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই ইইউভুক্ত দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল ২৫১ বিলিয়ন ইউরো, গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ বিলিয়ন ইউরোতে। ইউরোপীয় কমিশন আগামী সাত বছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ১৩১ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে, যা আগের বাজেটে ছিল মাত্র ১০ বিলিয়ন ইউরো।
তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি বিতর্ক এখনও রয়ে গেছে। অনেকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদেশি 'রেডিমেড' অস্ত্র কেনার পক্ষে, আবার অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বকীয়তা বা 'স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি' বজায় রাখতে নিজস্ব ইউরোপীয় সরঞ্জামের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন। এএসডি-র মহাসচিব ক্যামিল গ্র্যান্ড সতর্ক করে বলেছেন, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এখনও প্রতিরক্ষা ক্রয়ের একটি বড় অংশ ইউরোপের বাইরের সরবরাহকারীদের কাছে চলে যাচ্ছে। তাই সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং ইউরোপের নিজস্ব শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতা অনুযায়ী, দশকের শেষ নাগাদ রাশিয়া অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশেও হামলা চালাতে পারে, তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাইছে না ইউরোপ।