তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সুইডেন এমন কোনো বিশ্বে বাস করতে চায় না যেখানে পরাশক্তিরা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো আচরণ করে। বুধবার সুইডিশ রেডিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেনারগার্ড বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য এক ‘ক্রান্তিকাল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমি এমন একটি পৃথিবীতে বাস করতে চাই না যেখানে পরাশক্তিরা যা খুশি তাই করে।
ঠিক এই কারণেই এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া সুইডেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।” তার এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বীপটি কিনে নেওয়ার আহ্বান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড কোনো পণ্য নয় যে এটি বিক্রি করা হবে।
ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে তিনি বলেন, উভয় পক্ষকেই সাম্প্রতিক বাগবিতণ্ডা থেকে সরে এসে তাদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কে ফিরে যেতে হবে। তিনি বর্তমান সময়কে এমন এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে বিশ্ব আন্তর্জাতিক আইনের নীতি মেনে চলবে কি না। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের ঘটনাকেও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্টেনারগার্ড।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডেনমার্ক এই ঘটনাকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনমার্কের সেই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই হস্তক্ষেপের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি, বরং একে তারা নিছক একটি ‘অপরাধ দমন অভিযান’ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ স্বার্থের কথা বলে গ্রিনল্যান্ড দখলের বা কিনে নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অন্তর্গত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের যেকোনো প্রস্তাব বা ইঙ্গিত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সুইডেনের এই কঠোর অবস্থান নর্ডিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অবিচল শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।