হতাহতদের মধ্যে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত প্যারামেডিকরাও রয়েছেন, যারা আহতদের সাহায্য করার সময় ‘ডাবল ট্যাপ’ বা দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হন। লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানিয়েছেন, মস্কো তাদের এই নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রুশ শব্দ ‘ওরেশনিক’-এর অর্থ ‘হ্যাজেলনাট ট্রি’ বা এক ধরণের বাদাম গাছ। এটি রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নতুন ও শক্তিশালী সংযোজন, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং বহুদূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, লভিভে আঘাত হানা এই মিসাইলটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দিনিপ্রো শহরে প্রথমবারের মতো এই মিসাইল ব্যবহারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ক্রেমলিন দাবি করেছে, গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের কথিত হামলার ‘জবাব’ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পুতিনের বাসভবনে হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে, পুতিনের বাসভবনে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, দারনিৎস্কি জেলায় আহতদের সাহায্য করার সময় একজন প্যারামেডিক নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হামলার ফলে শহরের একাংশে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, রাশিয়া এই হামলায় মোট ৩৬টি মিসাইল এবং ২৪২টি ড্রোন ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও কালিুবর ক্রুজ মিসাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি কাতারের দূতাবাস ভবনও একটি রুশ ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কাতার যুদ্ধবন্দী ও বেসামরিক নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের কাছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই ঘটনার কঠোর ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়াকে অবশ্যই বার্তা দিতে হবে যে, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের পরিবর্তে কূটনীতির পথে মনোযোগ দেওয়া তাদের দায়িত্ব।”
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্যারিস বৈঠকের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হুমকি দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে ইউরোপীয় দেশগুলো শান্তিরক্ষী মোতায়েন করলে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এই হামলাকে ইউরোপীয় মহাদেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘ ও ন্যাটোর জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন।