শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোলিশ নাগরিকদের হাঙ্গেরিতে রাজনৈতিক আশ্রয়, ওয়ারশ ও বুদাপেস্টের সম্পর্কে নতুন করে ফাটল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

পোলিশ নাগরিকদের হাঙ্গেরিতে রাজনৈতিক আশ্রয়, ওয়ারশ ও বুদাপেস্টের সম্পর্কে নতুন করে ফাটল
ছবি: AA

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরেছে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত পোলিশ নাগরিকদের হাঙ্গেরি সরকার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করায় ওয়ারশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার পোলিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হাঙ্গেরি সম্প্রতি দুইজন পোলিশ নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।

 

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে "ইউরোপীয় সংহতির মূলনীতির পরিপন্থী" এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার শামিল বলে অভিহিত করেছে। পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র টিভিওপি ওয়ার্ল্ডকে (TVP World) জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের মতো পোল্যান্ডও হাঙ্গেরিতে দুই পোলিশ নাগরিকের আশ্রয় লাভের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। তবে আশ্রয়প্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

 

ওয়ারশ মনে করে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করার নামান্তর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবিতে পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়ারশতে নিযুক্ত হাঙ্গেরির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। মুখপাত্র মাচিয়েজ ওয়েভিওর স্থানীয় ওয়েব পোর্টাল ইন্টারিয়াকে নিশ্চিত করেছেন যে, পোল্যান্ড সরকার আশ্রয়প্রাপ্তদের নাম অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ গভীর।

 

এর আগেও পোল্যান্ডের সাবেক উপ-বিচারমন্ত্রী মার্সিন রোমানোস্কিকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রোমানোস্কি পোল্যান্ডের ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস’ পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি তহবিল তছরুপসহ মোট ১১টি গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে পোলিশ প্রসিকিউটররা। গ্রেফতার এড়াতে তিনি দেশ ত্যাগ করেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাঙ্গেরি তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করে।

 

পোল্যান্ডের বর্তমান সরকার এই পদক্ষেপকে অপরাধীদের বিচার থেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ভি-স্কয়ার’ (VSquare)-এর একটি প্রতিবেদনের পর। গত মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, পোল্যান্ডের সাবেক বিচারমন্ত্রী এবং রোমানোস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী জবিগনিউ জিওব্রো বর্তমানে বুদাপেস্টে অবস্থান করছেন। তিনিও একই অর্থ আত্মসাৎ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

যদিও জিওব্রো হাঙ্গেরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবুও তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সরকার পোল্যান্ডের সাবেক রক্ষণশীল সরকারের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু পোল্যান্ডে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে।

 

অপরাধমূলক তদন্তের মুখে থাকা সাবেক কর্মকর্তাদের হাঙ্গেরিতে আশ্রয় দেওয়াকে বর্তমান পোলিশ প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনা পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মধ্যকার দূরত্ব কেবল বাড়াচ্ছে না, বরং এটি ইইউর আইনি কাঠামো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপরও আঘাত হানছে।

 

- AA News