এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় মিরপুরে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের একটি লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ইনিংসের শুরুটা প্রত্যাশামাফিক হয়নি। দলীয় স্কোরবোর্ডে খুব বেশি রান যোগ হওয়ার আগেই মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান উদ্বোধনী ব্যাটার সাইফ হাসান।
এই প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমের সঙ্গে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই যুগল দ্বিতীয় উইকেটে ৯১ বল মোকাবিলা করে ৯৬ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল জুটি গড়েন।
দারুণ খেলতে থাকা তানজিদ তামিম ৫৪ রান করে আউট হলেও নিজের প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান শান্ত। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে দলের ব্যাটিং লাইনআপে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে।
চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা লিটন দাস মাত্র ৭ রান করে সরাসরি বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এর মধ্যেই নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে নেন তার এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বাদশ অর্ধশতক।
ব্যক্তিগত সংগ্রহ বাড়ানোর তাগিদে রানের গতি ত্বরান্বিত করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে থেমে যায় শান্তর ইনিংস। শীর্ষসারির ব্যাটারদের বিদায়ের পর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
ঠিক সেই মুহূর্তে দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় এবং দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন। তারা দুজন মিলে অত্যন্ত সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৭৫ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন।
একদিকে মোসাদ্দেক শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন, অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয় কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিলেন। ৫১ বল খেলে ৩১ রানের একটি ধীরগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন হৃদয়।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তানভীর ইসলাম ক্রিজে এলেও তারা কেউই দলের স্কোরে বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও এক প্রান্ত অবিচল রেখে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন মোসাদ্দেক।
তুলে নেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক, যা পরে পরিণত হয় তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে। এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৫২ রান। এদিন তিনি মাত্র ৭০ বল খেলে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
শেষ পর্যায়ে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ২০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস, যিনি একাই শিকার করেছেন ৩টি উইকেট। এ ছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২টি করে এবং বার্টলেট ১টি উইকেট নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন।