২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে উত্থান ঘটেছিল, তাতে প্রায় সব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারানোর গৌরব অর্জন করলেও একমাত্র অস্ট্রেলিয়াই এতদিন অধরা ছিল।
অবশেষে মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের বিশাল জয়ের মাধ্যমে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মূল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন দীর্ঘ চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
স্বাগতিকদের শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। দলীয় মাত্র পাঁচ রানে উদ্বোধনী ব্যাটার সাইফ হাসান বিদায় নিলেও তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
এই যুগল দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের একটি মজবুত জুটি গড়েন। তানজিদ ৫৪ এবং শান্ত ৬৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর লিটন দাস দ্রুত বিদায় নিলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মোসাদ্দেক হোসেন। হৃদয় ধীরগতিতে খেলে ৩১ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আগলে রাখেন মোসাদ্দেক। তিনি মাত্র সত্তর বল মোকাবিলা করে ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রানের এক অপরাজিত ও ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন।
শেষ দিকে পেসার তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংস দলকে এমন সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে সরাসরি বোল্ড করে দলকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান।
মাত্র দুই রানে দুই উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি। তবে পেসার নাহিদ রানার গতির আগুনে অজিদের সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। একাই চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে ফেলেন তিনি।
ব্যাট হাতে চমৎকার অবদান রাখার পর বল হাতেও চমক দেখান মোসাদ্দেক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫২ রানে অপরাজিত থাকলেও তা দলের জন্য কখনোই যথেষ্ট ছিল না।
বিয়াল্লিশ ওভার দুই বলে নয় উইকেট হারিয়ে অজিরা যখন ১৯১ রান সংগ্রহ করে, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মাঠের অবস্থা বিবেচনা করে আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দল।