সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিএলে তীব্র গরম, মাঠে লুটিয়ে পড়লেন ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:০১ পিএম

এনসিএলে তীব্র গরম, মাঠে লুটিয়ে পড়লেন ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের উদ্বোধনী দিনেই এক অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে চলমান ম্যাচের মাঝেই মাঠের ওপর লুটিয়ে পড়েন বরিশাল বিভাগের অভিজ্ঞ ব্যাটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ায় তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও, এই ঘটনা দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

আজ, শনিবার, ২৫ অক্টোবর, দেশের প্রথম শ্রেণির সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম সংস্করণ শুরু হয়েছে। এই আসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খুলনা বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে বরিশাল বিভাগ। স্বাগতিক খুলনায় তীব্র গরমের মধ্যেই যখন খেলা চলছিল, তখনই ঘটে যায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা।

 

ম্যাচের প্রথম সেশনে বরিশালের ইনিংসের ১৯তম ওভারের কিছুক্ষণ পর, বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডিং করার সময় আচমকাই মাটিতে পড়ে যান ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ৭ বছর আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দুটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে। মাঠে তিনি যখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান, তখন মুহূর্তের মধ্যে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

রাব্বির এমন অপ্রত্যাশিত পতন দেখে তাঁর সহকর্মী এবং প্রতিপক্ষ উভয় দলের খেলোয়াড়রাই দ্রুত তাঁর দিকে ছুটে যান। খুলনা বিভাগের ব্যাটার সৌম্য সরকার ছিলেন প্রথমদের মধ্যে একজন, যিনি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দ্রুত রাব্বির কাছে পৌঁছে যান এবং প্রাথমিক সাহায্য করতে শুরু করেন। খেলোয়াড়দের তৎপরতা এবং মানবিকতার এই দৃশ্য তাৎক্ষণিকভাবে সকলের নজর কাড়ে।

 

অসুস্থ খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা কর্মীদের ডাকা হয়। রাব্বিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য একটি স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বের করে আনা হয় এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক ধাপে মনে করা হয়েছিল, পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন হতে পারে।

 

তবে সকলের স্বস্তি ফিরিয়ে এনে কিছুক্ষণ পরেই জানা যায়, ফজলে মাহমুদ রাব্বি দ্রুতই তাঁর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেয়েছেন। প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিশ্রামের পর তিনি সুস্থতা অনুভব করায় তাঁকে আর হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি। রাব্বির তাৎক্ষণিক এই আরোগ্য তাঁর সতীর্থ, প্রতিপক্ষ এবং মাঠে উপস্থিত দর্শক-সবার মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে।

 

ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ম্যাচের রেফারি আখেরুজ্জামান খান। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, "রাব্বি মূলত প্রচণ্ড গরমের কারণেই অসুস্থ বোধ করেছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি এখন ভালো আছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হলেও, তিনি এখন ভালো বোধ করায় হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।" তিনি আরও যোগ করেন, "যদি পরবর্তীকালে কোনো নতুন তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে তা আমরা যথাযথভাবে জানিয়ে দেব।"

 

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে খেলোয়াড়দের কঠিন পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। গ্রীষ্মকালীন বা শুষ্ক মৌসুমে এই ধরনের শারীরিক ধকল নতুন নয়, তবে মাঠের মধ্যেই একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের এভাবে লুটিয়ে পড়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ম্যাচের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ঘরোয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন হিসেবে ফজলে মাহমুদ রাব্বির এই অসুস্থতা সকলকে চিন্তিত করেছে।

 

এই উদ্বেগজনক মুহূর্তের পরও, চিকিৎসার পর রাব্বি আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় খেলায় দ্রুত গতি ফিরে আসে। সামান্য বিরতির পর, ম্যাচটি পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পুনরায় শুরু হয় এবং বাকি খেলা চলতে থাকে।

 

বরিশাল বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে ফজলে মাহমুদ রাব্বি ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত। বহু বছর ধরে তিনি দলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য লাভ কেবল সতীর্থদের জন্যই স্বস্তির বিষয় নয়, বরং চলমান টুর্নামেন্টের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক দিক। তাঁর সুস্থতা প্রমাণ করে যে মাঠের পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক, দ্রুত এবং কার্যকর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

 

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মাঠের তাপমাত্রার প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের প্রটোকল এবং বিশ্রামের সময় পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।