সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের টিকিট মাত্র ১০০ টাকা, স্টেডিয়াম অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাফুফের ক্ষোভ

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম

নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের টিকিট মাত্র ১০০ টাকা, স্টেডিয়াম অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাফুফের ক্ষোভ
ছবি: File Photo

আসন্ন নারী ত্রিদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাধারণ দর্শকদের স্টেডিয়ামমুখী করতে এবং নারী ফুটবলের জাগরণকে ত্বরান্বিত করতে জাতীয় স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা।

 

শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বাফুফের কমিটি চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার গোলাম গাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট ছাড়ার ঘোষণার দিনেও স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের হতাশা গোপন রাখতে পারেননি বাফুফের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলনে টিকিটের বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে গোলাম গাউস জানান, সাধারণ গ্যালারি ছাড়াও দর্শকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে ক্লাবহাউজ-১ এর টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৩০০ টাকা। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং নারী দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এই জোনটিকে সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বা ‘উইমেনস জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাফুফে চায়, জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের খেলা দেখতে যেন অন্য নারীরাও নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে স্টেডিয়ামে আসতে পারেন।

 

এছাড়া ক্লাবহাউজ-২ এর টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। অন্যদিকে, রেড বক্স, প্রেসিডেন্ট বক্স এবং ভিআইপি স্কাই বক্সের আসনগুলো টুর্নামেন্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংকের জন্য ভিআইপি আসন হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রোববার দুপুর ২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে বাফুফে সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

তবে সংবাদ সম্মেলনে টিকিটের মূল্য ঘোষণার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের মাঠ ব্যবহার নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন গোলাম গাউস। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আগে মাঠের প্রস্তুতি ও সংস্কারের জন্য বাফুফের পক্ষ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে অন্তত চার-পাঁচ দিন সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে সেখানে রাগবি ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

গোলাম গাউস বলেন, “আমরা এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ও একক কর্তৃত্বাধীন স্টেডিয়াম বুঝে পাইনি। সরকারের কাছ থেকে শতভাগ মাঠ না পাওয়ায় এবং অন্য খেলার সঙ্গে সমন্বয় করে ফুটবল চালাতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত আপস করতে হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য একটি সুন্দর মাঠ ও পরিবেশ অপরিহার্য।

 

সরকারের কাছে একটি স্বতন্ত্র ফুটবল স্টেডিয়ামের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, নিজস্ব স্টেডিয়াম পেলে আরও নিরাপদে, সুন্দর পরিবেশে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হতো। আগামী ২৬ ও ২৯ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচগুলোকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টিকিটের মূল্য হাতের নাগালে থাকায় গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি।