শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বল দখলে এগিয়ে থেকেও ফিনিশিংয়ের অভাবে মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশের হতাশার হার

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪০ পিএম

বল দখলে এগিয়ে থেকেও ফিনিশিংয়ের অভাবে মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশের হতাশার হার
ছবি: Collected

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। বুধবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেও মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

 

পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণভাগের কৌশলগত ভুলে স্বাগতিকদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। ম্যাচের শুরুটা ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুহু স্লোগান আর করতালিতে উজ্জীবিত হয়ে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয় বাংলাদেশ। সপ্তম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের দুর্দান্ত ক্রস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মনিকা চাকমা।

 

বলের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় নিশ্চিত গোলবঞ্চিত হয় দল। এর কিছুক্ষণ পরেই ঋতুপর্ণা চাকমার কর্নার থেকে শামসুন্নাহারের নেওয়া হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯২তম স্থানে থাকা মালয়েশিয়া ধৈর্য ধরে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় ছিল। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগায় তারা।

 

বাংলাদেশের ‘হাই-লাইন ডিফেন্স’ বা ওপরে উঠে খেলার কৌশলের ফাটল ধরে নু হাদফিনা বিনতে মোদ ফিরদাউসের নিখুঁত পাসে বল পান নুর আইনসিয়াহ বিনতে মুরাদ। গোলরক্ষক রুপনা চাকমা বিপদ কাটাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও তাঁকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন আইনসিয়াহ।

 

প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো ধারালো আক্রমণের অভাব ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে স্বাগতিকদের সামনে। ডান প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার বাড়ানো বাঁকানো ক্রসে বদলি খেলোয়াড় সাগরিকা হেড করলেও তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

 

ম্যাচের ইনজুরি সময়ে মারিয়া মান্দা একক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে শট নিতে ব্যর্থ হন। ফলে ম্যাচে ফেরার শেষ আশাটুকুও নিভে যায়। শুধু ফলাফল নয়, দলের পারফরম্যান্সের ধরণ নিয়েও বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। কোচ পিটার বাটলারের রক্ষণভাগের কৌশল বারবার প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণের মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল।

 

গোলরক্ষক রুপনা চাকমার কিছু ক্ষিপ্র সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। দীর্ঘ দিন পর ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল একটি জয়োল্লাস, কিন্তু বল পজিশনে এগিয়ে থাকলেও অ্যাটাকিং থার্ডে বা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে বাংলাদেশের আক্রমণগুলো ছিল ছন্নছাড়া, যা সমর্থকদের হতাশ করেছে।

 

এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়া ছাড়া এখন আর কোনো পথ নেই পিটার বাটলারের দলের সামনে। আগামী ২ ডিসেম্বর আজারবাইজানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ভুল শুধরে সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে দর্শকদের প্রত্যাশিত জয় উপহার দিতে পারে কি না টাইগ্রেসরা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।