বিশ্বকাপের আগে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড শুরুটা দুর্দান্ত করলেও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের ২৭ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে প্রথম পাঁচ ওভারে ১ উইকেটে ৫০ রান তোলে সফরকারীরা। কিন্তু এরপরই বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ইনিংস।
মাত্র ৬৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৯টি উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধিকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তার সামনে এখন কেবল টিম সাউদি ও রশিদ খান রয়েছেন।
১১৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে ওপেনিংয়ে নামা সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাসের উইকেট হারায়। তবে নিজের জন্মদিনে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান। তার ৩৬ বলে খেলা চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ৫৫ রানের অনবদ্য ইনিংস এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ২৬ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩.৪ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় উইকেটে তানজিদ ও ইমনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে কোনো প্রকার নাটকীয়তা ছাড়াই সহজ জয় পায় স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে কেবল ব্যাট হাতেই নয়, ফিল্ডিংয়েও অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ম্যাচ সেরা তানজিদ হাসান। তিনি একাই পাঁচটি ক্যাচ লুফে নিয়েছেন, যা টেস্ট খেলুড়ে দেশের কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড।
আয়ারল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে এই দাপুটে জয় এবং সিরিজ শিরোপা নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের মনোবল চাঙ্গা করবে। বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা এবং টপ অর্ডারের রানে ফেরা দলের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।