মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-ইসরাইল হামলার জেরে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

ইরান-ইসরাইল হামলার জেরে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন এবং অপ্রত্যাশিত মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানে ইসরাইলের বারবার ও ধারাবাহিক সামরিক অভিযান এবং বোমাবর্ষণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার দীর্ঘদিনের উষ্ণ ও মজবুত সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

এই ফাটল কেবল সাময়িক কোনো মতানৈক্য নয়, বরং তা এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বন্ধুত্বকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের বিশিষ্ট লেখক এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘দ্য ক্যাপিটল হিল শো’-এর সঞ্চালক টিম কনস্ট্যান্টাইনের গভীর পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ঐতিহ্যগত মিত্রতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই সমীকরণে দৃশ্যত বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের নীতির সাথে ইসরাইলের আগ্রাসী পদক্ষেপের স্পষ্ট সাংঘর্ষিক অবস্থান এই দূরত্বের অন্যতম প্রধান কারণ।

 

টিম কনস্ট্যান্টাইন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, গত তিন বা চার দিনে ইসরাইল রাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে পরিমাণ প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং চরম হতাশা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা এর আগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কখনো দেখা যায়নি।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মিত্রদের কাছ থেকে সবসময় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বোঝাপড়া প্রত্যাশা করেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে বলে জানা যায়।

 

এই ফোনালাপের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি অত্যন্ত কড়া ও সরাসরি বার্তা প্রদান করেন। সেখানে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরাইল এবং ইরান উভয় রাষ্ট্রকেই অবিলম্বে তাদের মধ্যকার সকল প্রকার সামরিক সংঘাত বা ‘গোলাগুলি’ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

 

এই প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে টিম কনস্ট্যান্টাইন মন্তব্য করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে হতাশা এবং অসন্তোষের এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন যেখান থেকে তাদের সম্পর্ক পুনরায় আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া এক প্রকার অসম্ভব।

 

অতীতে এই দুই নেতার মধ্যে যে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সুদৃঢ় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বন্ধুত্ব ছিল, আগামী দিনগুলোতে সেই পুরনো উষ্ণতায় আর কখনোই ফিরে যাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।

 

বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এমন প্রকাশ্য দূরত্ব মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

 

- আল জাজিরা