মঙ্গলবার (৯ জুন) ইরানের এই শীর্ষ নেতার স্মরণসভা ও দাফন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বিশেষ জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিবৃতিতে এই তথ্য চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশি ও বিদেশি নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের অবসান ঘটিয়ে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়, যাতে দেশের শোকাহত সাধারণ মানুষ সঠিক দিকনির্দেশনা পান।
ইরানের স্বনামধন্য আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, কারবালার ঐতিহাসিক ও শোকাবহ ঘটনার স্মরণে আয়োজিত ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠানের প্রতি প্রয়াত এই সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত গভীর শ্রদ্ধা এবং আজীবনের আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার ছিল।
সেই অবিচল অঙ্গীকার ও ধর্মীয় পবিত্র অনুভূতির প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেই মূলত আশুরার আনুষ্ঠানিকতা তথা মহররমের প্রথম দশ দিন শেষ হওয়ার পর তাঁর দাফন ও জানাজার বিশাল আয়োজন করার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কমিটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণসভা ও দাফন অনুষ্ঠানটি যেন অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, আবেগ ও রাষ্ট্রীয় যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য দেশজুড়ে ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেশি এবং বিদেশি গণমাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সময়সূচি ও আয়োজন কেন্দ্রিক ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিত্তিহীন জল্পনাকল্পনা এবং যাচাইবিহীন খবর প্রচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
স্মরণসভা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্যের কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।
এগুলো কেবল শোকাহত সাধারণ মানুষের মনে অযাচিত বিভ্রান্তি, সংশয় এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তাই যেকোনো ধরনের অপ্রকাশিত বা অসমর্থিত সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কমিটির দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন যে, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে লাখো শোকাহত জনতার নিরাপদ অংশগ্রহণ এবং এই বিশাল আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
দাফন অনুষ্ঠানসংক্রান্ত চূড়ান্ত সময়সূচি, স্থান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং এর পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে নানা ধরনের বিশ্লেষণ, আলোচনা এবং দাবি উত্থাপিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া এই সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সব ধরনের যাচাইবিহীন খবর বা গুজব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত সত্য জানতে কেবল ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও দাপ্তরিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করার জন্য স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিনীত ও জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।