বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার দায় এড়িয়ে সত্যকে বিকৃত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার দায় এড়িয়ে সত্যকে বিকৃত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের
ছবি : Collected

বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এমনিতেই এক চরম উত্তেজনাকর ও সংকটময় সময় পার করছে। চারদিকে যখন যুদ্ধবিরতি এবং শান্তির দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা লাভ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের আগ্রাসী ও উসকানিমূলক ভূমিকা অত্যন্ত সুকৌশলে আড়াল করে উল্টো তেহরানের ওপর সব দায়ভার চাপানোর মার্কিন প্রশাসনের এই অপকৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বর্তমানে যে তীব্র অস্থিতিশীলতা, প্রাণহানি এবং চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তার প্রধান রূপকার হচ্ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র।

 

অথচ অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজেরাই বছরের পর বছর ধরে এই বহুমাত্রিক সংকটের জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্পূর্ণ নির্লজ্জভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত নিজেদের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ঐতিহাসিক দায় থেকে বাঁচার জন্য ওয়াশিংটনের সত্যকে বিকৃত করার এক সুপরিকল্পিত হাতিয়ার মাত্র।

 

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে গত ২১ অক্টোবর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বার্তায় ইসমাইল বাকায়ি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কড়া জবাব দেন।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাহীনতার জন্য এককভাবে ইরানকে দায়ী করেছিলেন।

 

একই সাথে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন অবস্থান নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে ইরানের মুখপাত্র তার বার্তায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি চরমভাবে লঙ্ঘন করে আসছে।

 

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত নয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ইরানের ওপর অন্তত দুবার সরাসরি ভয়াবহ সামরিক হামলা চালিয়েছে, যখন উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে আলোচনা চলমান ছিল।

 

এই মার্কিন আগ্রাসনের মাত্রা এতটাই অমানবিক ছিল যে, মিনাব অঞ্চলে মার্কিন হামলায় নিষ্পাপ শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং লামার্দ অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ তরুণীরা। এর পাশাপাশি ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের গুপ্তহত্যার মতো ভয়ংকর আন্তর্জাতিক অপরাধের সাথেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত বলে তিনি তথ্যপ্রমাণসহ উল্লেখ করেন।

 

শুধু প্রত্যক্ষ সামরিক আগ্রাসনই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও নানামুখী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠিন বেড়াজালে আটকে ফেলে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তোলার পেছনেও ওয়াশিংটনের একচেটিয়া দায় রয়েছে।

 

বাকায়ি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের স্বাক্ষরিত যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা প্রকাশ্যে ও নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন অবৈধভাবে বিজয়ের মিথ্যা দাবি করছে, ঠিক তেমনি একই সাথে পুরো বিশ্বকে প্রকৃত ভুক্তভোগী ইরানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার জন্য ক্রমাগত উসকানি দিয়ে চলেছে।

 

ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত কেবল একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর।

 

তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের সনদসহ যাবতীয় আন্তর্জাতিক আইন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েল যে ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদী নীতি চালিয়ে যাচ্ছে, আজ গোটা বিশ্ববাসীকে তার এক চরম ও অসহনীয় মূল্য চোকাতে হচ্ছে।

 

এই হঠকারী ও আগ্রাসী নীতির প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে একদিকে যেমন আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়ে অর্থনীতিতে মারাত্মক ধস নেমেছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে।

 

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে যেকোনো ধরনের কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টির অর্থ হলো পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে জিম্মি করে ফেলা।

 

এই নির্মম বাস্তবতার আলোকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের নেশায় গোটা অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে চারপাশকে এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই পরবর্তীতে বিচারক বা অভিযোগকারীর আসনে বসার নৈতিক অধিকার রাখে না।

 

তারা নিজেদের অপরাধ ঢেকে অন্যদের কাছে ভুক্তভোগীর বেশ ধরে সমবেদনা আদায় করতে পারে না। আগ্রাসী এবং ভুক্তভোগীর প্রকৃত অবস্থানকে সম্পূর্ণ উল্টোভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা এড়ানোর এই মার্কিন অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি বিশ্ববিবেককে সতর্ক করে দেন।

 

মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তার বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য ও যুক্তিনির্ভর জবাব ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির একটি চিরচেনা ও বারবার দৃশ্যমান হওয়া প্রবণতারই একটি অত্যন্ত স্পষ্ট উদাহরণ।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা এই প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ও পরীক্ষিত কৌশলই হলো প্রথমে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোনো একটি স্থিতিশীল অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সংকট বা যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন অত্যন্ত সুকৌশলে বৈশ্বিক মিডিয়াকে ব্যবহার করে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীর অবস্থানটি সম্পূর্ণ অদলবদল করে দেওয়া।

 

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নেটওয়ার্ক এইটিন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা এই সাম্রাজ্যবাদী কৌশলেরই একটি আধুনিক সংস্করণ।

 

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সরাসরি তেহরানকে দায়ী করেন। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি জার্মানির ধ্বংসাত্মক সাবমেরিন কৌশলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান আত্মরক্ষামূলক নৌ-তৎপরতার এক চরম বিতর্কিত ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাবিবর্জিত তুলনা টানেন তিনি।

 

তিনি মূলত এর মাধ্যমে তেহরানকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতার মূল কারিগর ও বৈশ্বিক খলনায়ক হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার অপচেষ্টা করেছেন। কিন্তু ইসমাইল বাকায়ি বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ এবং ঐতিহাসিক প্রমাণাদি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বয়ান কোনোভাবেই আঞ্চলিক পরিস্থিতির একটি নিরপেক্ষ বা সত্যনিষ্ঠ বিবরণ নয়; বরং এটি হলো সম্পূর্ণভাবে এই গভীর সংকট সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ধ্বংসাত্মক ভূমিকা আড়াল করার উদ্দেশ্যে বৈশ্বিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী, বিভ্রান্তিকর ও কপট কৌশল কেবল একটি দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বশান্তির জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে রুবিওর এই জোর প্রদান এবং নাৎসি জার্মানির মতো এক ঘৃণ্য শক্তির সাথে তুলনা করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী দ্বিমুখী ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে।

 

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র তার এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোকে একটি কৃত্রিম নৈতিক ও বৈশ্বিক দাবিতে রূপান্তর করতে চায়, যাতে বিশ্বের স্বাধীন কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করে, তবে তাকে যেন সহজেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

 

দ্বিতীয়ত, ইরানকে একটি অতিকায় বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিশ্বের সামনে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোতে নিজেদের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করা, তেহরানের ওপর নতুন করে আরও কঠোর ও অমানবিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করার জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে।

 

অথচ যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বক্তব্য কেবল একটি সাধারণ কূটনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং এটি হলো মূলত সেসব ধ্বংসাত্মক নীতিগুলোর ধারাবাহিকতাকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার একটি হাতিয়ার, যে নীতিগুলো নিজেরাই বর্তমান বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় উৎস।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে অযাচিতভাবে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে তেহরানের তীব্র নিন্দা জানাতে আহ্বান জানানোর এই সুচতুর মার্কিন কৌশলের বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তব পরিণতি রয়েছে।

 

প্রধানত, এই ধরনের দ্বৈত নীতি ও প্রতারণামূলক আচরণ যেকোনো ধরনের গঠনমূলক সংলাপ, শান্তি চুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে একেবারে শেকড় থেকে ধ্বংস করে দেয়।

 

কারণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যে পক্ষ একটি স্পর্শকাতর আলোচনার ঠিক মাঝপথে হঠাৎ করে সামরিক হামলা চালায় এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি চরমভাবে ভঙ্গ করে, সেই পক্ষই যখন পরবর্তীতে নির্লজ্জভাবে অভিযোগকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার কোনো প্রতিশ্রুতির ওপর ন্যূনতম আস্থাও অবশিষ্ট থাকে না।

 

উপরন্তু, এটি আগ্রাসী ও আক্রমণকারী পক্ষকে তাদের সংঘটিত যাবতীয় কৃতকর্মের দায়বদ্ধতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার একটি কূটকৌশল মাত্র। যেকোনো যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে, পুরো আন্তর্জাতিক আলোচনাকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রকৃত ভুক্তভোগীর নিন্দা জানানোর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, যা চরম ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

 

পরিশেষে, এই ধরনের আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামরিকীকরণকে আরও ভয়ংকর মাত্রায় বাড়িয়ে তোলে এবং ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে।

 

সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে হাঁটার পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি শিকার হওয়া দেশ ইরানের বিরুদ্ধেই উল্টো অপবাদ দেওয়া এবং তেহরানবিরোধী আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ওপর অযৌক্তিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

 

এর ফলে এই আগ্রাসী নীতির কারণে সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক সংকটের চরম আর্থিক ও মানবিক মূল্য অনন্তকাল ধরে দিতে হচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বকে। বর্তমান এই চরম জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয় হলো, পশ্চিম এশিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক আইন, যৌক্তিকতা এবং বাস্তবতাভিত্তিক নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ফিরিয়ে আনা। আগ্রাসী এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় মনগড়াভাবে উল্টে দিয়ে কখনোই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি এড়ানো সম্ভব নয়।

 

- পার্সটুডে