আর এই চরম হতাশা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের অন্যতম মিত্র রাষ্ট্র ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের মাঝেই তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের একগুঁয়ে নীতি, অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং ক্রমাগত শর্ত ভঙ্গের কারণেই এই অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া হতে চলেছে।
তার মতে, চুক্তির শর্তগুলোর প্রতি আন্তরিক না হয়ে উল্টো উসকানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়া সত্ত্বেও এবং নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলেও, বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে এই চুক্তিটি যাতে আলোর মুখ দেখতে পারে, সেজন্য উভয় পক্ষকে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য অত্যন্ত জোরালো ও সময়োপযোগী আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-তে সম্প্রচারিত এক বিশেষ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজ দেশের নাগরিক এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এই সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন।
তার এই ভাষণ এমন এক সংকটময় সময়ে প্রদান করা হলো, যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত একটি উত্তপ্ত বারুদস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বগ্রাসী যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট তার দীর্ঘ বক্তব্যে অত্যন্ত সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করেছেন কীভাবে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রস্তুত হওয়ার পরও তা আকস্মিকভাবে ভেস্তে গেল।
তিনি গভীর আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তেহরান শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ সম্পূর্ণভাবে খোলা রেখেছিল এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অপর পক্ষের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং নতুন নতুন সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি হুমকির কারণে আস্থার সংকট আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্রতর হয়েছে।
তার দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন যদি সত্যিই এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইত, তবে তারা ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করতে আরও কঠোর, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারত।
এই আকস্মিক কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ও প্রকাশ্য ঘোষণাকে প্রধান অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ‘মিনি এপিক ফিউরি’ বা ‘ক্ষুদ্র পরিসরে মহাকাব্যিক ক্ষোভ’ নামক এক নতুন এবং অত্যন্ত আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুস্পষ্ট হুমকি প্রদান করেন, ঠিক তার পরপরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে।
একটি স্পর্শকাতর শান্তি আলোচনার মাঝপথে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের উসকানিমূলক এবং সামরিক দিক থেকে সংবেদনশীল ঘোষণার ফলে সমগ্র অঞ্চলে নতুন করে চরম অস্থিতিশীলতা, আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের আকস্মিক সামরিক আস্ফালন কেবল ইরানকেই ক্ষুব্ধ করেনি, বরং গোটা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রগুলোকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কূটনৈতিক আলোচনার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর ক্রমাগত প্ররোচনামূলক ও যুদ্ধংদেহী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঘোলাটে করে তুলেছে।
নেতানিয়াহু তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে যে ধরনের আগ্রাসী এবং হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করেছেন, তা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার শামিল বলেই মনে করছে তেহরান।
তবে ইরানও এই সমস্ত বহুমুখী হুমকির মুখে নীরব দর্শক হয়ে বসে নেই। ট্রাম্পের নজিরবিহীন সামরিক হুমকি এবং নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বরের অত্যন্ত কড়া, দ্রুত ও দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে যে, ইরানের ভূখণ্ডে বা তাদের কোনো জাতীয় স্বার্থের ওপর যদি সামান্যতম সীমিত বা ক্ষুদ্র আকারের আক্রমণও চালানো হয়, তবে তার পরিণাম আক্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, যেকোনো আক্রমণের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব হিসেবে তারা বহুগুণ বেশি শক্তিশালী, নিখুঁত এবং বিধ্বংসী হামলা চালাবে, যার জন্য আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোকে চরম মূল্য চোকাতে হবে।
এই ভয়াবহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় থেকেও অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন বার্তা প্রদান করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরের মতো কৌশলগত এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কোনো অবস্থাতেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
পারস্য উপসাগর বিশ্ব বাণিজ্যের, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল সরবরাহের এক অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর ধমনী। এই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধিকে ইরান তাদের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
আবদোল্লাহির এই কঠোর বক্তব্য থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, ইরান তাদের জলসীমা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য রক্ষায় যেকোনো ধরনের বৃহৎ সামরিক সংঘাতে জড়াতেও বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। এটি মূলত ওয়াশিংটন এবং তাদের মিত্রদের প্রতি তেহরানের এক ধরনের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে তারা এই অস্থিতিশীল অঞ্চলে নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহসিকতা প্রদর্শনের চেষ্টা না করে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরান তাদের কূটনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় অবস্থানও অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মহাজেরানি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় একটি মন্তব্য করেছেন।
তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেছেন যে, তেহরান কখনোই কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ চায় না এবং তারা সর্বদা প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাসী। তবে তিনি একই সঙ্গে এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তির প্রতি ইরানের এই আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা বা অসহায়ত্ব ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
নিজেদের মাতৃভূমির অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তির রক্তচক্ষুকে সম্পূর্ণভাবে তোয়াক্কা করতে প্রস্তুত। যদি তাদের ওপর অন্যায়ভাবে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিক সমস্ত প্রচলিত সমীকরণকে পাশ কাটিয়ে তারা আক্রমণকারীদের এমন এক ভয়াবহ ও দৃষ্টান্তমূলক জবাব দেবে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তার এই বক্তব্য থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইরান একদিকে যেমন শান্তির স্বার্থে আলোচনার দরজা খোলা রাখছে, অন্যদিকে যেকোনো অপ্রত্যাশিত সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে রেখেছে।
বহির্বিশ্বের এই প্রচণ্ড চাপ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব রদবদল ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ সংহতি, জাতীয় ঐক্য এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শীর্ষ পর্যায়ে দফায় দফায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চলমান এই শ্বাসরুদ্ধকর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলাদা দুটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়। বিশেষ করে, রাষ্ট্রীয় সব স্তরে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফোরামে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি ও কৌশলগত উপায় নিয়ে তারা বিস্তারিত ও দীর্ঘ আলোচনা করেন।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইরান কেবল সামরিকভাবেই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দিক থেকেও যেকোনো চরম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা গ্রহণ করছে।
সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতি যেন ভেঙে না পড়ে, সেদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করে সরকার এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচারিক ফোরামে নিজেদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিকে আরও জোরালো এবং যৌক্তিক করার জন্য নিখুঁত কূটনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
এই সামগ্রিক প্রস্তুতি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ইরান একটি বহুমাত্রিক লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, যেখানে সামরিক, কূটনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে তারা সমানভাবে এবং অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিতে বদ্ধপরিকর।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এক অভূতপূর্ব ও ভয়ংকর সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। একটি সফল হতে চলা অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উত্থাপন করেছেন, তা আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তির জন্য নিঃসন্দেহে এক গভীর অশনিসংকেত।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী সামরিক হুংকার, অন্যদিকে ইরানের অবিচল ও অনমনীয় প্রতিরোধ-এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে পড়ে সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এখন খাদের একেবারে কিনারে অবস্থান করছে।
এই চরম মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য পরাশক্তিগুলোর নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার কোনো সুযোগ বা অবকাশ নেই। অবিলম্বে সব পক্ষকে কূটনৈতিকভাবে সংযত করে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা না গেলে, এই সংঘাত এমন এক সর্বগ্রাসী ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে, যার বিরূপ প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বরং তা গোটা বিশ্বের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যকে এক গভীর খাদের দিকে ঠেলে দেবে। পেজেশকিয়ানের আলোচনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বনেতৃত্ব যদি এখনই কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই বিশ্বকে হয়তো আরও ভয়াবহ কোনো মানবিক বিপর্যয়ের করুণ সাক্ষী হতে হবে।