বুধবার হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের "অনমনীয় মনোভাবের" কারণে আলোচনা "কঠিন" হয়ে পড়েছে বলেও তারা সতর্ক করেছে। হামাসের একজন কর্মকর্তা তাহের আল-নুনু বলেন, "গণহত্যা বন্ধ করতে এবং আমাদের জনগণের জন্য নির্বিঘ্নে ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখিয়েছি।" তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং নির্বিঘ্নে ত্রাণ সরবরাহের মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তার কথায় আগের মতো দৃঢ়তা ছিল না।
এই কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহের জন্য অপেক্ষারত ৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েল-সমর্থিত ত্রাণ কেন্দ্রগুলিতে হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৭০ ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসের হাসপাতাল জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে। হাসপাতালের এক বিবৃতিতে বলা হয়, "অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকরা প্রচণ্ড গরমে, ছাড়াই কাজ করছেন। ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে তাদের শরীর অবসন্ন, কিন্তু চোখে এখনো ও দৃঢ়তা।" বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, এই সংঘাতে গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৮টি আংশিকভাবে সচল রয়েছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ৬ শতাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
গাজা শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতেও ইসরায়েল ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘনবসতিপূর্ণ গুলোতে 'ভূমিকম্প বোমা'-এর মতো শক্তিশালী বোমা ফেলা হয়েছে, যা পুরো এলাকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। শাতি শরণার্থী শিবিরে রাতের আঁধারে এক হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের উপর বসে এক বাসিন্দা বলেন, "সাতটি ছোট শিশু এখানে মারা গেছে। আরেকদিকে আরও দশটি শিশু। তাদের কী দোষ ছিল?"
---