মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় খাবারের লাইনেও গুলি, একদিনে ১১০ ফিলিস্তিনি নিহত; যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ এএম

গাজায় খাবারের লাইনেও গুলি, একদিনে ১১০ ফিলিস্তিনি নিহত; যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির
ফাইল ছবি

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার একদিনেই বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাফাহ শহরে, যেখানে ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, এতেই নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৪ জন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন কাতারে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাফায় মার্কিন-সমর্থিত একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালানো হয়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, "যে ব্যাগটি খাবার দিয়ে ভরার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হলো কাফনের কাপড়ে। ঈশ্বরের কসম, এটি একটি মৃত্যুফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়।" আরেকজন বলেন, "তারা আমাদের শিকারি হাঁসের মতো করে গুলি করে হত্যা করেছে। রাফাহ ছাড়াও জাবালিয়া, গাজা সিটি এবং শাতি শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক হামলা চালানো হয়। হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, আহতদের বেশিরভাগেরই মাথায় এবং পায়ে গুলি লেগেছে এবং বিপুল সংখ্যক হতাহতের চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

 

এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই গাজার মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, অপুষ্টির কারণে এ পর্যন্ত ৬৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে গেছে। মূল মতবিরোধ দেখা দিয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাবিত মানচিত্র নিয়ে। হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রস্তাবে গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা তাদের দখলেই থেকে যাবে, যা কার্যত গাজাকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত করবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য গাজার ফিলিস্তিনি সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। একদিকে যেমন ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর হামলা চলছে, তেমনি অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য রাফাহর ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি তথাকথিত "মানবিক শহর" বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল, যা এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

---

আল জাজিরা