বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাফায় মার্কিন-সমর্থিত একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালানো হয়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, "যে ব্যাগটি খাবার দিয়ে ভরার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হলো কাফনের কাপড়ে। ঈশ্বরের কসম, এটি একটি মৃত্যুফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়।" আরেকজন বলেন, "তারা আমাদের শিকারি হাঁসের মতো করে গুলি করে হত্যা করেছে। রাফাহ ছাড়াও জাবালিয়া, গাজা সিটি এবং শাতি শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক হামলা চালানো হয়। হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, আহতদের বেশিরভাগেরই মাথায় এবং পায়ে গুলি লেগেছে এবং বিপুল সংখ্যক হতাহতের চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই গাজার মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, অপুষ্টির কারণে এ পর্যন্ত ৬৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে গেছে। মূল মতবিরোধ দেখা দিয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাবিত মানচিত্র নিয়ে। হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রস্তাবে গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা তাদের দখলেই থেকে যাবে, যা কার্যত গাজাকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য গাজার ফিলিস্তিনি সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। একদিকে যেমন ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর হামলা চলছে, তেমনি অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য রাফাহর ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি তথাকথিত "মানবিক শহর" বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল, যা এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
---