অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার গাজা শহরের একটি জনাকীর্ণ বাজার এবং পানি সংগ্রহের লাইনে চালানো পৃথক হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে ইসরায়েলের ২১ মাসব্যাপী এই যুদ্ধে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৮,০২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজা শহরের বাজারে ইসরায়েলি হামলায় একজন বিশিষ্ট চিকিৎসকসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৭টি শিশুও রয়েছে, যারা খাবার পানি সংগ্রহের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছিল। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
এই ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পাশাপাশি গাজায় চলছে তীব্র মানবিক সংকট। যুদ্ধ এবং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে উপত্যকার প্রায় ২১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা, ইউনিসেফ, জানিয়েছে শুধু গত জুন মাসেই ৫,৮০০-র বেশি শিশুকে অপুষ্টির শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি এই পরিস্থিতিকে "শুধু পুষ্টি সংকট নয়, এটি শিশু জীবন বাঁচানোর জরুরি অবস্থা" বলে বর্ণনা করেছে। সম্প্রতি অপুষ্টিতে সালাম নামের সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA)।
এদিকে, জাতিসংঘ এবং আরও সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, গাজায় জ্বালানি সরবরাহে ইসরায়েলি অবরোধ অব্যাহত থাকলে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর অর্থ হবে স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্রাণ কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়া। অন্যদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও তা স্থবির হয়ে আছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপদে ত্রাণ বিতরণের মতো মূল দাবিগুলো এড়িয়ে শুধুমাত্র বন্দীদের বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছে, যা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
---