মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজাবাসীকে রাফায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' তৈরির অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

গাজাবাসীকে রাফায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' তৈরির অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে
ফাইল ছবি

বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ: স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরায়েল দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে বাড়িঘর ধ্বংসের মাত্রা তীব্রভাবে বাড়িয়েছে। গত তিন মাসেই প্রায় ১৩ হাজার ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত পরিকল্পনা: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজার সমগ্র জনসংখ্যাকে (প্রায় ২০ লাখ) রাফাহতে একটি নতুন 'মানবিক শহরে' স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।

'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প'-এর অভিযোগ: জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) এবং ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনাকে 'বিশাল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' তৈরির ষড়যন্ত্র এবং মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ: কিছু স্কুল এবং হাসপাতাল রক্ষা করা হয়েছে, যা থেকে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, স্থানান্তরিত জনগণকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এগুলোকে পরিকল্পিতভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

 

আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিটের এক তদন্তে উঠে এসেছে, ইসরায়েল দক্ষিণ গাজার রাফাহ গভর্নরেটে ভবন ধ্বংসের অভিযান ভয়াবহভাবে বাড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এটি গাজার সমগ্র ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক একটি নির্দিষ্ট এলাকায় স্থানান্তরের এক বিশাল পরিকল্পনার অংশ, যাকে সমালোচকরা 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' তৈরির নীলনকশা বলে অভিহিত করছেন। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের (UNOSAT) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ঠা এপ্রিল থেকে ৪ঠা জুলাই পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে রাফাহতে প্রায় ১২,৮০০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮,৬০০-তে।

 

এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৬ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে আল-মাওয়াসি এলাকা থেকে রাফাহতে নবনির্মিত একটি 'মানবিক শহরে' স্থানান্তর করা হবে। চূড়ান্তভাবে, গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে এই একটি শহরেই সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সতর্ক করে বলেছেন, "এটি মিশরীয় সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যত বিশাল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প তৈরি করবে।" ইসরায়েলি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গও এটিকে "আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট অপরাধ" বলে অভিহিত করেছেন।

 

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও একটি উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও রাফাহর ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৮টি চিকিৎসা কেন্দ্রকে অক্ষত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই 'নির্বাচিত ধ্বংসযজ্ঞ' কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল এই অক্ষত ভবনগুলোকে ভবিষ্যৎ স্থানান্তরিত বিশাল জনসংখ্যার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। সমালোচকরা এই পুরো প্রক্রিয়াকে 'জাতিগত নিধন' বা 'ethnic cleansing'-এর একটি পর্যায় হিসেবে দেখছেন।

 

---

আল জাজিরা