এই প্রতিবেদনটি সাতজন কর্মরত ও সাবেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সৈন্যের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাজারে সহজলভ্য চীনা ড্রোনগুলোর সঙ্গে সামরিক যন্ত্রাংশ জুড়ে দিয়ে সেগুলোকে প্রাণঘাতী অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে। সৈন্যরা ম্যানুয়ালি এই ড্রোনগুলো পরিচালনা করে বেসামরিক বাড়িঘরে বোমা ফেলছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা এবং বিতাড়িত এলাকায় তাদের ফিরে আসা রোধ করা।
তদন্তে জানা যায়, মূলত চীনের 'অটেল' (Autel) কোম্পানির তৈরি 'ইভো' (Evo) ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণত ফটোগ্রাফাররা প্রায় ৩,০০০ ডলারে কিনে থাকেন। কিন্তু সামরিক বাহিনী 'আয়রন বল' নামক একটি বিশেষ সংযুক্তি ব্যবহার করে এই ড্রোনের সঙ্গে হ্যান্ড গ্রেনেড জুড়ে দিচ্ছে এবং একটি বাটনের চাপেই তা নিচে ফেলে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সাক্ষাৎকার দেওয়া সৈন্যরা আরও ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৈন্য, যিনি রাফাহ শহরে দায়িত্ব পালন করেছেন, জানান, তিনি নিজ চোখে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা হতে দেখেছেন, যারা কেবল নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, "তাদের কারও কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।"
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই হামলায় শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সৈন্য একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "একটি ছেলে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিল। সে কিছুই করছিল না। কিন্তু তাকে ড্রোন থেকে গ্রেনেড ফেলে হত্যা করা হয়।" কিছু ক্ষেত্রে, মৃতদেহ সরাতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সৈন্যরা দূর থেকে মৃতদেহগুলোকে কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর দৃশ্য ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এই তদন্ত এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যগুলো চলমান সংঘাতে এক নতুন আতঙ্ক এবং নিষ্ঠুরতার মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে সাধারণ প্রযুক্তিকে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
---