জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট, যেখানে ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা দেশটির বিরুদ্ধে এক ‘স্পষ্ট এবং অভিশাপজনক অভিযোগপত্র’। বিবিসি-র আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েনের এক বিশ্লেষণে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
এই রিপোর্টটি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এতে গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগসহ শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
যেমন, নেতানিয়াহুর গাজা যুদ্ধকে বাইবেলের ‘আলেক’ জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা, যেখানে নারী-শিশুসহ সকলকে নির্মূল করার কথা বলা হয়েছে, তাকে গণহত্যার উদ্দেশ্য হিসেবেই দেখছে কমিশন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, এই রিপোর্টের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক পরিহাস হলো, ইসরায়েলকে সেই গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা ১৯৪৮ সালে নাৎসিদের দ্বারা ৬০ লক্ষ ইহুদিদের গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতেই তৈরি করা হয়েছিল।
যদিও ইসরায়েল এই রিপোর্টকে ‘হামাস-অনুপ্রাণিত ইহুদি-বিদ্বেষী মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, এটি তাদের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।