চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মিলিশিয়া নেতারা তাদের কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। খান ইউনিস এলাকার একটি মিলিশিয়ার নেতা, হুসাম আল-আস্তাল, দৃঢ়ভাবে বলেন, তুরস্ক "হামাসকে সমর্থন করে এবং হামাসকে রক্ষা করে।" তিনি তুরস্ক এবং কাতার উভয়কেই "যুদ্ধাপরাধী" হিসেবে আখ্যা দেন।
আল-আস্তাল আরও অভিযোগ করেন, "হামাস ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকা উভয়ের ওপরই ধ্বংস ডেকে এনেছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর জন্য হামাসই দায়ী, ইসরায়েল নয়। যুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "যখন একজন বন্দুকধারী তাঁবুগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকত, ইসরায়েল তাকে হত্যা করত, আর তারপর মানুষ বলত যে ইসরায়েল শিশুদের খুন করেছে।"
তিনি স্পষ্ট করেন, "হামাসের বিরুদ্ধে যারা আমাদের সাহায্য করবে, তাদের আমরা স্বাগত জানাব।" এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে হামাস-বিরোধী এই গোষ্ঠীগুলো গাজায় এমন কোনো শক্তির সমর্থন চায়, যা হামাসকে প্রতিহত করতে তাদের সাহায্য করবে।
আল-আস্তালের এই অভিযোগ হামাস ও তুরস্ক-কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক সরকার এবং কাতারের কর্তৃপক্ষ উভয়েই গাজায় মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে হামাসকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমর্থনের অভিযোগও রয়েছে। এই মিলিশিয়া নেতাদের বক্তব্য যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করল।
রাফাহ অঞ্চলে ইয়াসের আবু শাবাবের মিলিশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রাসান আল-দাহিনিও একই ধরনের কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "তুরস্ক শান্তির জন্য কাজ করছে না; তারা খোলামেলা এবং স্পষ্টভাবে হামাসকে সমর্থন করে।" তিনি যোগ করেন, তাদের গোষ্ঠী কোনোভাবেই তুর্কি বা কাতারি বাহিনীর উপস্থিতি মেনে নেবে না।
আল-দাহিনিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে গেলে, ২০০১ সালে লেবানন থেকে আইডিএফ প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ লেবানন আর্মির (এসএলএ) সদস্যদের মতো তাদেরও কি নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলে পালিয়ে যেতে হবে কিনা। এর জবাবে আল-দাহিনি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি রাফাহর বাসিন্দা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের ঘর ছেড়ে যাবেন না। এই মন্তব্য তাদের স্থানীয় পরিচয় এবং গাজায় টিকে থাকার দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে আবু শাবাবের গোষ্ঠীর হাতে থাকা অস্ত্র ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। এর মাধ্যমে তিনি তাদের বর্তমান লক্ষ্য যে শুধুই হামাসের বিরুদ্ধে, সে বিষয়টি পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করেন।
হামাস-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থান যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন ও নিরাপত্তার কাঠামো নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। আইডিএফ-এর অনুপস্থিতিতে এই স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো কীভাবে ক্ষমতা বা নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণ করবে, এবং কাতার ও তুরস্কের মতো আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে তাদের এই কঠোর আপত্তি কীভাবে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। এই স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি গাজার ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।