মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ: খাবারের অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্তদের ওপর ইসরায়েলি গুলিতে ১১৫ জনের মৃত্যু

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ এএম

গাজায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ: খাবারের অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্তদের ওপর ইসরায়েলি গুলিতে ১১৫ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যখন তীব্র খাদ্যাভাব এবং অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তখন ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। গত মে মাসের পর থেকে ত্রাণপ্রত্যাশীদের ওপর চালানো একক হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল রবিবারের এই হামলায় আরও কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিংয়ের কাছে ত্রাণের জন্য জড়ো হওয়া ভিড়ের ওপর ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬৭ জন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণের একটি পৃথক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে আরও ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাগুলোর ফলে, গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত শুধু খাবারের ত্রাণের জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে ৯০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা এই হামলাকে এক নারকীয় অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন। রিজিক বেত্তার নামে এক ব্যক্তি জানান, অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তিনি আহত এক বৃদ্ধকে সাইকেলে করে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখানে কোনো খাবার নেই, জীবন নেই, বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা কোনোমতে টিকে আছি। জাতিসংঘ এই দুর্ভিক্ষকে "মানবসৃষ্ট" বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, তাদের ২৫টি ট্রাকের একটি ত্রাণ কনভয় গাজায় প্রবেশের পরপরই গুলির শিকার হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা "তাৎক্ষণিক হুমকি" মোকাবেলায় "সতর্কতামূলক গুলি" চালিয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ কনভয়কে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অপুষ্টি এবং পানি শূন্যতার কারণে শত শত ফিলিস্তিনি, বিশেষ করে শিশুরা, আসন্ন মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১টি শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে এবং আরও ৬০ হাজার শিশুর মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মার্কিন-ইসলামিক সম্পর্ক পরিষদ (CAIR) এই হত্যাকাণ্ডকে "গণহত্যা" বলে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতাকে দায়ী করেছে।

 

---

আল জাজিরা