রবিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদা, রাস-ইসা এবং আস-সালিফ বন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাস কাথিব বিদ্যুৎকেন্দ্রেও বোমাবর্ষণ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হুতিদের দখলে থাকা গ্যালাক্সি লিডার জাহাজের রাডার সিস্টেমও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। জাহাজটি বর্তমানে হোদেইদা বন্দরে নোঙর করা আছে। তবে এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রায় এক মাস বিরতির পর ইয়েমেনে এটিই প্রথম ইসরায়েলি হামলা। দিনের শুরুতে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবির কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েল এই হামলা চালায়।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে সোমবার ভোরে হুতি বিদ্রোহীরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে তারা এই হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল এবং সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। এই হামলার কারণে জেরুজালেম, হেবরন এবং ডেড সি সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই হুতিরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে ১০০টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে হুতিরা তাদের হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু গত ১৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হত্যার পর হুতিরা আবারও তাদের প্রতিরোধমূলক হামলা শুরু করে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং একটি বৃহত্তর সংঘাতের উদ্বেগ তৈরি করেছে।