সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরমাণু বিষয় ছাড়া ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা নয়- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম

পরমাণু বিষয় ছাড়া ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা নয়- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: MNA

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার তেহরানে এক স্পষ্ট ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হলে তা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ইরানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তেহরানের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন সম্প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

 

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলোকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু এসব বিষয়ে "ইরানের অবস্থান সর্বদা স্পষ্ট ছিল।"

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে শুধুমাত্র এবং একচেটিয়াভাবে পারমাণবিক বিষয়কেন্দ্রিক।" আব্বাস আরাঘচি ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান কাঠামোগত সংলাপেরও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তেহরান ও মাস্কাটে প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়।

 

এদিকে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওমানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে এমন প্রতিবেদন নাকচ করে দেন। তিনি স্বীকার করেন যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বা নোট আদান-প্রদান হতে পারে, তবে এই ধরনের বিনিময় "ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা প্রক্রিয়ার সূচনা করে না এবং করবেও না।"

 

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালেই ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য ও উসকানিমূলক আগ্রাসন শুরু করে। এই ইসরায়েলি হামলার ফলে একটি ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সূচনা হয়, যাতে সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ১,০৬৪ জন ইরানি নাগরিক নিহত হন। পরবর্তীতে, যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে।

 

এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থান এবং কাতারে অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। গত ২৪ জুন, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের বিরুদ্ধেই ইরানের সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটে বলে ইরান দাবি করে আসছে।

 

- Mehr News