আব্বাস আরাকচি ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরান "আলোচনা ও কূটনীতির পতাকা কখনো নামিয়ে রাখেনি," তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্যই সমতার ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন করতে হবে। তিনি বলেন, "আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, আলোচনা এবং একতরফা আদেশ বা হুকুম তামিল এক জিনিস নয়; আমরা কারও কাছ থেকে আদেশ শুনতে প্রস্তুত নই।" তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) এবং কূটনীতির পথ থেকে সরে গিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "শত্রুরা" দেশের ভেতরে বিভাজন তৈরি করতে এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করা উচিত নয় এবং জাতীয় ঐক্য ও শান্ত মাথায় সেগুলোর সমাধান করতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক "১২ দিনের যুদ্ধের" উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময় "ময়দান (সামরিক) এবং কূটনীতি ঐক্যের সেরা উদাহরণ" প্রদর্শন করেছিল। যখন সামরিক বাহিনী দেশকে রক্ষা করছিল, তখন কূটনৈতিক ফ্রন্ট ইরানের বৈধতা রক্ষায় কাজ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ) গৃহীত হয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে।
বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আরাকচি রাশিয়া এবং চীনের সাথে ইরানের "ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সহযোগিতার" ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিরোধীরা এই শক্তিশালী সম্পর্ককে দুর্বল করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে।
আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে ইরান একটি "নতুন ঐকমত্য" প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করাকে তেহরানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, কিছু মতবিরোধ সত্ত্বেও আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসারিত হচ্ছে। আরাকচি দাবি করেন, সম্প্রতি কাতারের ওপর জায়নবাদী শাসনের (ইসরায়েল) হামলার পর, এই অঞ্চলের অনেক রাষ্ট্রই ইসরায়েলকে প্রধান আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। এর ফলে, একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ইরানের সাথে সহযোগিতা করার আগ্রহও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এনপিটি থেকে সম্ভাব্য প্রস্থানের বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের ধারণা প্রচার করছেন, তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার (পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে) ফতোয়াকে অবহেলা করছেন। তিনি স্বীকার করেন, এই চুক্তিতে থাকার বা না থাকার উভয় সিদ্ধান্তের বিভিন্ন মাত্রা রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে যেমন শক্তিশালী করতে পারে, তেমনি হুমকির মুখেও ফেলতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে, তবে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো এনপিটি-এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়া "কখনোই উপেক্ষিত হবে না"।