এই ঘটনাটি পবিত্র এই স্থানটির ঐতিহাসিক 'স্ট্যাটাস কুও' বা স্থিতাবস্থা চুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের এই স্থিতাবস্থা চুক্তিটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করার পর থেকে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এই স্থানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, মসজিদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব জর্ডান-নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত থাকে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল প্রাঙ্গণের বাইরের এবং প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে। এই স্থিতাবস্থা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, এটি অ-মুসলিমদের (পর্যটক এবং ইসরায়েলি নাগরিক) প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের অনুমতি দেয়, তবে তা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু এই চুক্তিতে অ-মুসলিমদের জন্য এই পবিত্র স্থানে প্রার্থনা করা বা কোনো প্রকার ধর্মীয় আচার পালন করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধুমাত্র মুসলিমরাই এই প্রাঙ্গণে উপাসনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ইসলামিক ওয়াকফ, ইসরায়েলি নাগরিকদের এই ধরনের প্রবেশকে সচরাচর 'অনুপ্রবেশ' বা 'হামলা' (storming) হিসেবে অভিহিত করে এবং একে স্থিতাবস্থা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে। তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইসরায়েলি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো, প্রায়শই ইসরায়েলি পুলিশের সুরক্ষায়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক এই স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।
বিশেষত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, কট্টরপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রার্থনা করার অধিকার আদায়ের জন্য তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে, যা মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জেরুজালেমের গভর্নর অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ৯০০ ব্যক্তির এই দলটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো স্থানটির ইসলামিক পরিচিতিকে ক্ষুণ্ণ করার এবং প্রাঙ্গণটিকে জামানি ও স্থানিকভাবে বিভক্ত করার বৃহত্তর ইসরায়েলি পরিকল্পনার অংশ।
আল আকসা মসজিদ মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং এটি ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয়ের এক অন্যতম প্রধান প্রতীক। এই স্থানের ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা উত্তেজনা অতীতেও একাধিকবার বড় ধরনের সংঘাত ও সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। তাই, বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলির এই সাম্প্রতিক প্রবেশের ঘটনাটি এই অঞ্চলের ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।