শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৃহবন্দী ইসরায়েলি বাহিনীর সাবেক শীর্ষ আইনজীবী ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমি হাসপাতালে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

গৃহবন্দী ইসরায়েলি বাহিনীর সাবেক শীর্ষ আইনজীবী ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমি হাসপাতালে
ছবি: Flash 90

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং সম্প্রতি পদত্যাগকারী শীর্ষ আইন কর্মকর্তা, মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় রবিবার ভোরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাকে দ্রুত তেল আবিবের ইচিলোভ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তিনি বর্তমানে সচেতন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

 

এই ঘটনাটি ঘটলো তার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গৃহবন্দীত্বে আসার মাত্র দুই দিনের মাথায়। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তাকে রামলার নেভে তিরৎজা মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে, তিনি প্রায় পাঁচ দিন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা যায়, যা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে তিনি তার পদ থেকে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন।

 

মেজর জেনারেল তোমের-ইয়েরুশালমি বর্তমানে এক গুরুতর আইনি ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। গত বছর সংবাদমাধ্যমে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয় ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তিনি সম্প্রতি নিজের ভূমিকা স্বীকার করেন। এই স্বীকারোক্তির পরই তিনি তার দীর্ঘদিনের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রতারণা, জনসাধারণের বিশ্বাসের খেলাপ, দাপ্তরিক পদের অপব্যবহার, ন্যায়বিচারে বাধা প্রদান এবং বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য প্রকাশের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

 

এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে হতে পারে। যে ভিডিওটি নিয়ে এই তোলপাড়, সেটি গত বছর সদে তেইমান সামরিক বন্দিশিবিরে ধারণ করা হয়েছিল। ফাঁস হওয়া ওই ফুটেজে দেখা যায়, ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজা থেকে আনা একজন ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে বন্দীকে লাথি, টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া এবং অমানবিক আচরণের দৃশ্যও দেখা যায়।

 

এই ভিডিও প্রকাশের পর ইসরায়েলের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। তোমের-ইয়েরুশালমি তার পদত্যাগপত্রে দাবি করেছিলেন, সেনাবাহিনীর আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উগ্র-ডানপন্থীদের 'মিথ্যা প্রচারণা' মোকাবিলার জন্যই তিনি এই ভিডিও প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছিলেন। মূলত, তার বিভাগই ওই নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করছিল, যা উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের রোষানলে পড়ে।

 

তবে, তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত ফোনটি সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার (যেমনটি পুলিশ সন্দেহ করছে) ঘটনা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, তিনি এই ঘটনাপ্রবাহে নিজের জড়িত থাকার প্রমাণ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার গৃহবন্দীত্বের আদেশ পাওয়ার পর সপ্তাহান্তেই তার এই আকস্মিক অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই উচ্চ-ঝুঁকির মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

 

- Times Of Israel