আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা এবং মতপার্থক্য কমিয়ে আনা। রবিবার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। নেতানিয়াহু আশা করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক গাজায় বন্দী বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতিতে সহায়ক হবে। এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে, হামাসের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল কাতারে পাঠানো হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু হামাসের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের কিছু পরিবর্তনকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দুই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য "যথেষ্ট ক্ষমতা" ছিল না, কারণ তাদের "কোনো বাস্তব ক্ষমতা" ছিল না। হামাস এই সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে, যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এখনও অনেক ব্যবধান রয়েছে। ইসরায়েলের অতিরিক্ত দাবি এবং গাজায় চলমান গণহত্যা সত্ত্বেও হামাস আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
গত জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল এবং হামাস গাজা যুদ্ধ শেষ করতে এবং ইসরায়েলি বন্দীদের ফিলিস্তিনি বন্দীদের সঙ্গে বিনিময় করতে পরোক্ষ আলোচনায় জড়িত। মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত তিন ধাপের চুক্তির রূপরেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু ১৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রর সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় আবারও হামলা শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৫৭,২৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১৩৫,৬২৫ জন। এই মানবিক সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখন অত্যন্ত জরুরি।