প্রায় ২১ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজার ২০ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা এক বিপর্যয়কর মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন কঠোর ভাষার বিবৃতিকে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা ত্রাণ বিতরণের ধীরগতি এবং খাদ্য ও পানির মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের অমানবিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।" এতে আরও বলা হয়, "ইসরায়েলি সরকারের ত্রাণ বিতরণ মডেলটি বিপজ্জনক, অস্থিতিশীলতাকে উস্কে দিচ্ছে এবং গাজাবাসীকে মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করছে। ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।"
জাতিসংঘ এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টাকালে এ পর্যন্ত ৮৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যৌথ বিবৃতিটি ইসরায়েলের ওপর প্রচণ্ড কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে, কারণ এতে ইউরোপের বাইরের মিত্র দেশগুলোও (যেমন জাপান ও নিউজিল্যান্ড) সামিল হয়েছে, যা একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতিতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন, "এই যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরবর্তী যুদ্ধবিরতিই হতে হবে শেষ যুদ্ধবিরতি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় এই সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলি আক্রমণে এ পর্যন্ত ৫৯,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
---